গ্রিনল্যান্ড "জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে" যুক্তরাষ্ট্রের "পেতেই হবে" বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে জেদ ধরার পর ইউরোপীয় নেতারা তার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ডেনমার্ক একই সাথে ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে দিতে ডেনমার্কের মিত্রদের উপর ট্রাম্পের চাপ অথবা রপ্তানির উপর শাস্তিমূলক কর আরোপের হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) যখন বসছে, তখন প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে।
সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের বিষয়টি পুরো ইউরোপে উদ্বেগের ঘণ্টা বাজিয়েছে, বিশেষ করে সেই অর্থনীতিগুলোর জন্য যারা ইতিমধ্যেই দুর্বল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপর রপ্তানির জন্য অনেক বেশি নির্ভরশীল। জার্মানির গাড়ি শিল্প এবং ইতালির বিলাসবহুল পণ্যের বাজার বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনার WEF-এর আগে তার ফরাসি প্রতিপক্ষের সাথে জরুরি বৈঠকের পর বলেছেন, "আমরা নিজেদের ব্ল্যাকমেইল হতে দেব না"। এটি অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে বিবেচিত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
গ্রিনল্যান্ডের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসাবে ডেনমার্কের অধীনে থাকার কারণে এর যথেষ্ট পরিমাণে স্ব-শাসন ক্ষমতা রয়েছে, যদিও ডেনমার্ক বৈদেশিক বিষয় ও প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে, মূলত এর ভৌগলিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে। তবে, ট্রাম্পের অঞ্চলটি অধিগ্রহণের নতুন আগ্রহ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় দেশ থেকেই দৃঢ় প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান পরীক্ষিত হচ্ছে। যদিও পৃথক দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বিভিন্ন মাত্রার হতে পারে, তবে শুল্ক আরোপের সম্মিলিত হুমকি তাদের আরও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইইউ-এর বাণিজ্য নীতি, যার লক্ষ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি সমান ক্ষেত্র তৈরি করা, তা এখন সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এই বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে। আগামী দিনগুলোতে জানা যাবে ইউরোপের আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্মপন্থা পরিবর্তন করতে পারে কিনা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment