বিবিসির অ্যানালাইসিস এডিটর রস অ্যাটকিন্সের বিশ্লেষণ অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বছরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সংখ্যাগত তথ্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এই বিশ্লেষণে অর্থনীতি, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন খাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে, এবং বেকারত্বের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই সময়ে শেয়ার বাজারও উল্লেখযোগ্য লাভ দেখেছে। তবে, সমালোচকরা ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা আংশিকভাবে প্রশাসনের প্রণীত ট্যাক্স কাটের কারণে বেড়েছিল। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, এই ট্যাক্স কাটের ফলে আগামী দশ বছরে জাতীয় ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সীমান্ত enforcement বৃদ্ধি এবং বেশ কয়েকটি দেশ থেকে অভিবাসন সীমিত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসন মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে একটি প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে, যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এই নীতিগুলো কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের কাছ থেকে সমর্থন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিন্দা উভয়ই আকর্ষণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। প্রশাসন উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর প্রতি আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন যে এই পদক্ষেপগুলো আমেরিকান সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করেছে এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করেছে, তাই তারা এর প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
বিবিসির বিশ্লেষণে নিয়ন্ত্রক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন অসংখ্য পরিবেশগত নিয়মকানুন বাতিল করেছে। সমর্থকদের যুক্তি ছিল যে এই পরিবর্তনগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলবে এবং ব্যবসার উপর চাপ কমাবে, অন্যদিকে বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে।
অ্যাটকিন্স কর্তৃক উপস্থাপিত ডেটা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরের একটি পরিমাণগত চিত্র দিয়েছে, যা বিভিন্ন খাতে এর নীতিগুলোর প্রভাব সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এই বিশ্লেষণের লক্ষ্য ছিল একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা, যেখানে উপলব্ধ ডেটা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনের পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় পরিণতি স্বীকার করা হয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment