অক্সফ্যামের বৈশ্বিক বৈষম্য বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদন একটি কঠোর বাস্তবতা উন্মোচন করেছে: ২০২৫ সালে ধনকুবেরদের সম্পদ ১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবারণের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। সম্পদের এই কেন্দ্রীভবন, যা অক্সফ্যামের ভাষায় ধনী শ্রেণির "নির্লজ্জ" রাজনৈতিক প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধনকুবেরের সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো ৩,০০০ ছাড়িয়েছে। ২০২০ সাল থেকে তাদের সম্মিলিত সম্পদ ৮১% বা ৮.২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। অক্সফ্যামের মতে, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে ২৬ বার বিশ্ব দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব, যা অতি ধনী এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশাল বৈষম্যকে তুলে ধরে। এই সম্পদ বৃদ্ধি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে যখন অনেক দেশে কঠোরতা নীতি এবং চাকরির অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে বিক্ষোভ বেড়েছে এবং প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায়শই সরকার কর্তৃক নৃশংস দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
এই সম্পদ কেন্দ্রীভবনের প্রভাব সামাজিক ন্যায়বিচারের উদ্বেগের বাইরেও বিস্তৃত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে ধনীদের প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, যার ফলে এমন নীতি তৈরি হচ্ছে যা বৃহত্তর সামাজিক চাহিদার পরিবর্তে অভিজাতদেরFavor করে। এটি কর ফাঁকি, Deregulation এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোর বেসরকারীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে, যা বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে। দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে, যেখানে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও রাজনৈতিক নেতারা একত্রিত হন, সেখানে জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে কর্পোরেশনগুলোকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সংকট থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্রমবর্ধমান জনগণের অসন্তোষকে তুলে ধরে।
অক্সফ্যামের এই കണ്ടെത്ത্যা এমন এক সময়ে এসেছে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial intelligence) ক্রমবর্ধমানভাবে অর্থনৈতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং বোঝার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। AI অ্যালগরিদমগুলি বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সম্পদ accumulation এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ধরণ সনাক্ত করতে পারে, যা পূর্বে পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব ছিল এমন অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। তবে, এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে AI সহজাতভাবে objective নয়। এটি যে ডেটার উপর প্রশিক্ষিত এবং ব্যবহৃত অ্যালগরিদমগুলি বিদ্যমান bias গুলোকে প্রতিফলিত করতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে skewed বা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। AI-এর বিকাশ এবং deployment-এ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলা থেকে রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য।
সামনের দিকে তাকিয়ে, অক্সফ্যামের প্রতিবেদনটি একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি (Inclusive growth) উৎসাহিত করা, সম্পদের বৈষম্য মোকাবিলা করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবিধাগুলো আরও equitably ভাগ করে নেওয়া নিশ্চিত করা। এর জন্য অগ্রাধিকারের একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন, ধনী শ্রেণিরFavor করে এমন নীতি থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় AI-এর ভূমিকা critical হবে, তবে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলা এড়াতে এটিকে দায়িত্বশীল এবং নৈতিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment