উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি, সপ্তম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন, যারা সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মুসেভেনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৭২% ভোট পেয়েছেন।
তবে, এই নির্বাচন আফ্রিকান নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সমালোচিত হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের ওপর উল্লেখযোগ্য দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন, যাঁর আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি, তাঁর বাসভবনে পুলিশি অভিযান এড়িয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার পরে তাঁর অবস্থান এখনও পর্যন্ত অস্পষ্ট। ওয়াইন ২৫% ভোট পেয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা ওয়াইনের বাড়িতে অভিযানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে তিনি বাসভবনেই ছিলেন। কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ওই সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে।
মুসেভেনির এই জয়ে তাঁর শাসনকাল চার দশক পর্যন্ত বাড়ল। উত্তেজনা এবং সহিংসতার খবরের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে, সরকার তাদের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিল যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করতে এটি প্রয়োজনীয় ছিল।
ওয়াইনের প্রচারণা, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে, উল্লেখযোগ্য গতি লাভ করেছিল, যা মুসেভেনির দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভিতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন।
আফ্রিকান ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক মিশন নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকার এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের অনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কথিত অনিয়মের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ, এবং বিরোধী দল তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment