জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে, মূল ভূখণ্ড চীন থেকে জাপানে আসা পর্যটকদের সংখ্যা ডিসেম্বরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৪৫% কম। এই হ্রাসের ফলে প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার চীনা পর্যটক এসেছেন, যা আগের সংখ্যা থেকে বেশ কম।
গত বছরের শেষের দিকে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমতে শুরু করে, যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘোষণা করেন যে চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে জাপান সম্ভবত সামরিকভাবে জড়িত হবে। এই অবস্থানের কারণে একটি তিক্ত কূটনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা দুটি দেশের মধ্যে ভ্রমণকে প্রভাবিত করছে।
চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমলেও, জাপান এখনও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। গত বছর দেশটি ৪ কোটি ২৭ লক্ষ বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালে স্থাপিত প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামগ্রিক বৃদ্ধি থেকে বোঝা যায় যে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমলেও, অন্যান্য বাজার জাপানের পর্যটন খাতে অবদান রাখছে।
এই পরিস্থিতি ভূ-রাজনীতি এবং পর্যটনের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ভ্রমণের সিদ্ধান্তকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন জাতীয় নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিষয় জড়িত থাকে। "সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস" (Sentiment Analysis)-এর ধারণা, যা প্রায়শই এআই-তে ব্যবহৃত হয়, রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে ভ্রমণের ইচ্ছার উপর প্রভাব পরিমাপ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস অ্যালগরিদমগুলি সামাজিক মিডিয়া পোস্ট এবং অনলাইন পর্যালোচনার মতো টেক্সট ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত আবেগের সুর নির্ধারণ করে। এই ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির বিবৃতির পরে চীনা সামাজিক মাধ্যম এবং ভ্রমণ ফোরামগুলি বিশ্লেষণ করলে পর্যটনের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারত।
পর্যটন প্রবণতা অনুমান এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। মেশিন লার্নিং মডেলগুলি ভবিষ্যতের পর্যটন প্যাটার্নগুলির পূর্বাভাস দিতে ফ্লাইট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন এবং ভিসা আবেদনের মতো বিশাল ডেটা সেট বিশ্লেষণ করতে পারে। এই মডেলগুলি পূর্বাভাসের নির্ভুলতা উন্নত করতে রাজনৈতিক ঘটনা এবং অর্থনৈতিক সূচকের মতো বাহ্যিক কারণগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এই ক্ষেত্রের সর্বশেষ উন্নয়নে বিভিন্ন কারণ এবং পর্যটন চাহিদার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ককে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য "কজাল ইনফ্যারেন্স" (Causal Inference) কৌশল ব্যবহার করা জড়িত। এটি আরও সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ এবং নীতি নির্ধারণের সুযোগ করে দেয়।
জাপানে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা হ্রাসের ফলে জাপানের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে সেই ব্যবসাগুলির উপর যারা চীনা পর্যটকদের পরিষেবা প্রদান করে। খুচরা, আতিথেয়তা এবং পরিবহন খাতগুলি সম্ভবত কম রাজস্ব আয় করবে। তবে, জাপানে আন্তর্জাতিক পর্যটনের সামগ্রিক বৃদ্ধি এই নেতিবাচক প্রভাবগুলির কিছু প্রশমিত করতে পারে।
সামনের দিকে তাকিয়ে, জাপানে চীনা পর্যটনের ভবিষ্যৎ সম্ভবত বেইজিং এবং টোকিওর মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তনের উপর নির্ভর করবে। উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক আলোচনার উপর নতুন করে মনোযোগ দিলে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং চীনা পর্যটকদের ফিরে আসতে উৎসাহিত করতে সাহায্য করতে পারে। জাপানি সরকার চীনা দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য লক্ষ্যযুক্ত বিপণন প্রচারাভিযানও চালাতে পারে, যেখানে দেশটির সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপর জোর দেওয়া হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment