যুক্তরাষ্ট্রে তহবিল कटौतीজনিত কারণে পিএইচডি ভর্তির সংখ্যা হ্রাস শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রভাবিত করছে না, বরং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগেই তরুণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিজ্ঞানীদের জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এই পাইপলাইন সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ায় বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব বাজারে আমেরিকার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের জন্য একটি বড় হুমকি তৈরি হয়েছে।
নেচারে (৬৪৭, ১৫-১৬; ২০২৫) প্রকাশিত এবং নেচারে (৬৪৯, ৮২৭; ২০২৬) আরও বিশদভাবে বিশ্লেষিত এই প্রবণতা থেকে দেখা যায় যে, ফেডারেল তহবিলের সম্ভাব্য হ্রাস নিয়ে উদ্বেগের কারণে পিএইচডি প্রোগ্রামগুলো সরাসরি সংকুচিত হচ্ছে, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পরে এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। যদিও এই कटौतीগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ডলারের পরিমাণ এখনও পর্যন্ত একটি অনুমান, তবে তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইতিমধ্যেই ভর্তি সংখ্যা কমে গেছে। এই আগাম ছাঁটাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি ঝুঁকি-বিমুখ কৌশলকে প্রতিফলিত করে, যেখানে তারা কঠোর বাজেট এবং ডক্টরাল ছাত্রদের সহায়তা করার সীমিত ক্ষমতা আশা করছে। উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রে কর্মজীবন গড়তে চায়, তারা এর দ্বারা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ পিএইচডি প্রোগ্রাম কম হওয়ার অর্থ হল গবেষণার সুযোগ এবং পরামর্শদানের সম্ভাবনা হ্রাস, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক আবেদন প্রোফাইল তৈরি করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর বাজারগত প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পিএইচডি স্নাতকদের একটি ছোট পুল মানে হল জৈবপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত উৎপাদন-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে উদ্ভাবন চালানোর জন্য কম সংখ্যক কর্মী। এর ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ধীরগতি আসতে পারে, যা বিশ্ব বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে। উপরন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে গবেষণা output হ্রাস, যা কম সংখ্যক পিএইচডি ছাত্রের সরাসরি ফল, নতুন প্রযুক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিকাশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে।
ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রতিভা বিকাশের ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করে, কিন্তু বর্তমানে তারা একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষার সম্মুখীন। একদিকে তাদের বাজেট সীমাবদ্ধতা সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের গবেষণা output বজায় রাখতে এবং সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট থাকতে হচ্ছে। গবেষণায় এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এআই সরঞ্জামগুলো ডেটা বিশ্লেষণ এবং হাইপোথিসিস তৈরিকে দ্রুততর করতে পারলেও, কঠোর পিএইচডি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তারা প্রতিস্থাপন করতে পারে না। মানব গবেষকের সংখ্যা হ্রাস পেলে এআই-চালিত গবেষণার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনকে দমিয়ে দিতে পারে।
সামনের দিকে তাকালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এই তহবিল সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার উপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষা এবং গবেষণায় বর্ধিত বিনিয়োগ, সেইসাথে পিএইচডি প্রোগ্রামগুলোকে সমর্থন করে এমন নীতি, ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের পদক্ষেপ ছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে। বর্তমান প্রবণতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপের দাবি জানায়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment