পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করেন যে, এই প্রথম বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী দলের একটি সরকার জোটের অংশ হিসেবে দেশ পরিচালনার একটি বিশ্বাসযোগ্য সুযোগ রয়েছে। জামায়াত নামে পরিচিত এই ইসলামী দলটি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের সমর্থন বাড়ছে বলে মনে করছে।
ফরিদপুর জেলার ৪৫ বছর বয়সী একজন ব্যাংকার এবং জামায়াতের সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি দলটিকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ঐক্য দেখেছেন। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ, বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবেও পরিচিত।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলে। দলটির ইতিহাস জটিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এর বিতর্কিত ভূমিকা রয়েছে, যেখানে কিছু সদস্য পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। এর ফলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার হয়, যা দলটির ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে।
দলটিকে বেশ কয়েক বছর ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশ হাইকোর্ট কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনরায় প্রবেশ করতে পেরেছে, যা বাংলাদেশের ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রাধান্য রয়েছে। জামায়াতের সম্ভাব্য উত্থান বিদ্যমান ক্ষমতার সমীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি প্রধান দলগুলোর মধ্যে কোনোটির সাথে জোট গঠন করে বা ঝুলন্ত সংসদে কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হয়। আসন্ন নির্বাচন জামায়াতের বর্তমান সমর্থনের মাত্রা এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment