২০২৫ সালের ২০শে জানুয়ারি বাতাসে চাপা উত্তেজনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন, তখন হেরিটেজ ফাউন্ডেশন কর্তৃক তৈরি করা একটি পরিকল্পনা, যা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ নামে পরিচিত, সেটি আর কেবল একটি দলিল নয়; বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করলো। কয়েক মাসের মধ্যেই, ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID) তীব্র বাজেট कटौती-র সম্মুখীন হল, পরিবেশ সুরক্ষার নিয়মকানুন ভেঙে ফেলা হল, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মতাদর্শগত সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হল। কিন্তু এখন কী হবে? এই প্রশাসনের দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করার সাথে সাথে, প্রশ্নটি কেবল কী করা হয়েছে তা নিয়ে নয়, বরং ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা করেছে এবং কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence) এর বাস্তবায়ন দ্রুততর করতে পারে, সেটিও আলোচনার বিষয়।
‘প্রজেক্ট ২০২৫’ মূলত একটি রক্ষণশীল সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা, যা সম্ভাব্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ। এটি শক্তি ও শিক্ষা থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে নীতি প্রস্তাবের রূপরেখা দেয়। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হল নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা সুসংহত করা, ফেডারেল সরকারের আকার এবং পরিধি হ্রাস করা এবং সামাজিকভাবে রক্ষণশীল এজেন্ডাকে উৎসাহিত করা। এর প্রভাব ব্যাপক এবং এর পিছনে থাকা রক্ষণশীল সংস্থা এবং ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক থেকেই এর ক্ষমতার উৎস।
‘প্রজেক্ট ২০২৫’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে। কল্পনা করুন, কিছু রক্ষণশীল মহল যেমনটা পরামর্শ দিয়েছে, শিক্ষা পাঠ্যক্রমে "দেশপ্রেমহীন" বিষয়বস্তু চিহ্নিত করতে এবং পতাকাঙ্কিত করতে এআই-চালিত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যালগরিদম পাঠ্যপুস্তক, সিলেবাস এবং এমনকি লেকচারের প্রতিলিপি বিশ্লেষণ করতে পারে এবং প্রশাসনের পছন্দের বর্ণনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু চিহ্নিত করতে পারে। এটি একাডেমিক স্বাধীনতা এবং সেন্সরশিপের সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
উপরন্তু, এআই (AI) নিয়ন্ত্রক রোলব্যাক প্রক্রিয়াটিকে সুগম করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। হাজার হাজার পৃষ্ঠার নিয়মাবলী যাচাই করার জন্য মানুষের বিশ্লেষকদের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে, এআই (AI) দ্রুত ব্যবসার জন্য বোঝা স্বরূপ নিয়মগুলি চিহ্নিত করতে পারে, যা তাদের বাতিল বা সংশোধনের পথ প্রশস্ত করবে। এর ফলে দ্রুতDeregulation হতে পারে, যা পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং গ্রাহক সুরক্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিষয়ক নীতিশাস্ত্রের অধ্যাপক ডঃ Anya Sharma ব্যাখ্যা করেন, "এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর লক্ষ্যগুলি অর্জনের গতি এবং মাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।" "পূর্বে যে কাজগুলি সম্পন্ন করতে বছরের পর বছর ধরে আমলাতান্ত্রিক কৌশল অবলম্বন করতে হত, এখন তা কয়েক মাস, এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা যেতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।"
এআই (AI) এর ব্যবহার অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। মুখের স্বীকৃতি প্রযুক্তি, বিশাল ডেটাবেসের সাথে মিলিত হয়ে, নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের সনাক্ত এবং ট্র্যাক করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ফলে নির্বাসন বাড়তে পারে। এআই (AI) চালিত নজরদারি ব্যবস্থা সীমান্ত অঞ্চলগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, সীমান্তকে আরও militarize করতে পারে এবং privacy ও নাগরিক স্বাধীনতা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
তবে, ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এ এআই (AI) এর সংহতকরণ চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। ব্যবহৃত অ্যালগরিদমগুলিকে পক্ষপাতিত্ব এড়াতে এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতার সাথে যাচাই করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য বা ভিন্নমতের দমন প্রতিরোধ করতে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকন্তু, সরকারী কার্যাবলী স্বয়ংক্রিয় করতে এআই (AI) ব্যবহারের নৈতিক প্রভাবগুলি সাবধানে বিবেচনা করতে হবে।
সামনের দিকে তাকালে, ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর ভবিষ্যৎ বেশ কয়েকটি কারণের উপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে জনমত, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনের কার্যকরভাবে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের ক্ষমতা। এআই (AI) এর ভূমিকা সম্ভবত ক্রমবর্ধমানভাবে বিশিষ্ট হয়ে উঠবে, যা কেবল নীতিগুলিকেই নয়, সেগুলি বাস্তবায়নের গতি এবং দক্ষতাকে আকার দেবে। ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর উপর এআই (AI) এর সম্ভাব্য প্রভাব বোঝা এমন একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেখানে প্রযুক্তি কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থ নয়, বরং সকল নাগরিকের স্বার্থে কাজ করে। ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ নিয়ে আলোচনার পরিধিকে আরও বাড়িয়ে এআই (AI) এর নৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলির সমালোচনামূলক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে এর ব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নীতিগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment