আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এর নেতা শেখ হাসিনা নির্বাসনে থাকায় আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি "বছরের পর বছর ধরে দমনমূলক শাসনের" কারণে জনগণের অসন্তোষের কথা স্বীকার করেছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়, শ্রীনিবাসন জৈনের সাথে কথা বলার সময় স্বীকার করেন যে আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলের স্থিতিস্থাপকতার সাথে এর তুলনা করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, একটি অভিজ্ঞ দল কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে যেমন কৌশল তৈরি করে, তেমনি আওয়ামী লীগও ভোটারদের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন এবং তাদের অভিযোগগুলো সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করে প্রত্যাবর্তনের কৌশল তৈরি করছে। জয় বলেন, "আমরা হতাশা বুঝতে পারছি এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল এবং একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে, এখন পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন, কারণ দলটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতি অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ খেলার আগে একজন তারকা খেলোয়াড়কে বসিয়ে রাখার মতো, যা দলের জয়ের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে।
তবে সমালোচকরা এখনও সন্দিহান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ড. রহমান মন্তব্য করেছেন, "তাদের শুধু উৎসাহমূলক বক্তব্য দিলেই হবে না। বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে তাদের নেতৃত্ব ও নীতিগুলোর সম্পূর্ণ পরিবর্তন দরকার।"
আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ফলাফলের উপর এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। দলের সমর্থকদের একত্রিত করার এবং জনমতকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এর ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণে সহায়ক হবে। আগামী কয়েক মাস একটি উচ্চ-ঝুঁকির খেলার শেষ প্রান্তিকের মতো হবে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ যাচাই করা হবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত সম্ভাব্যভাবে খেলা পরিবর্তনকারী হতে পারে। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এর মানিয়ে নেওয়ার, পুনর্গঠন করার এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের মন জয় করার ক্ষমতার উপর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment