সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না। ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই ঘোষণাটি আসে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনার পর।
বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, সামরিক উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ফোরাম চলাকালীন একটি পুরোনো রেকর্ডিংয়ে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, "আমরা সম্ভবত কিছুই পাব না, যদি না আমি অতিরিক্ত শক্তি ও বল প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিই, যেখানে আমরা, সত্যি বলতে, অপ্রতিরোধ্য হবো।" "কিন্তু আমি তা করব না, ঠিক আছে?"
গ্রিনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক আগ্রহ, যা ২০১৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়, তা বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ডেনমার্কের রাজ্য, যারা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে, তারা বার বার জানিয়েছে যে দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডকে পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে এর কৌশলগত অবস্থান, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা।
সামরিক শক্তির মাধ্যমে অঞ্চল অধিগ্রহণের ধারণা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে একটি জটিল বিষয়। জাতিসংঘের সনদ যেকোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি বা শক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যদিও সংঘাতের মাধ্যমে অঞ্চল অধিগ্রহণের ঐতিহাসিক উদাহরণ রয়েছে, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিন্দা করে।
প্রেসিডেন্টের এই বিবৃতি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত সম্পৃক্ততার জন্য অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বা কূটনৈতিক আলোচনার মতো অন্যান্য উপায় অনুসরণের সম্ভাবনা খোলা রেখেছে। তবে, ডেনিশ সরকার ধারাবাহিকভাবে গ্রিনল্যান্ডের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের উপর জোর দিয়েছে এবং এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সামরিক শক্তিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা চলমান নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment