তাইওয়ানের রাজনৈতিক অচলাবস্থা প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র ৪০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে, যা চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা, যারা আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা সামরিক সরঞ্জামের জন্য আট বছরের বিনিয়োগ অনুমোদনের আগে লাই-এর কাছে ছাড় দাবি করে প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছেন।
এই অচলাবস্থা তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা জোরদার করার ক্ষমতার উপর বৃহত্তর প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে যখন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বীপটিকে তার নিজের নিরাপত্তার জন্য আর্থিক অবদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। লাই এই বছর তাইওয়ানের অর্থনীতির ৩ শতাংশের বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার লক্ষ্য বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রধান নিরাপত্তা মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করা।
তবে, পরিকল্পনাটি বর্তমানে লাই-এর দল এবং বিরোধীদের মধ্যে বাজেট এবং আইনি বিরোধে আটকে আছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ করেছে এবং আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই বিষয়ে পরিচিত সূত্র অনুসারে, বিরোধের মূল কারণ হল তহবিল বরাদ্দ এবং নির্দিষ্ট ধরণের সামরিক সরঞ্জাম অধিগ্রহণ নিয়ে মতানৈক্য।
এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটছে, যারা তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসাবে দেখে এবং unification অর্জনের জন্য শক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনা বাতিল করেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপের চারপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন বিমান ও নৌ মহড়া। যুক্তরাষ্ট্র, "কৌশলগত অস্পষ্টতা" নীতি বজায় রেখেও, এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং তাইওয়ানকে তার আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদার করতে উৎসাহিত করছে।
সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা অনুমোদনে বিলম্ব তাইওয়ানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ককে সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের তাদের নিরাপত্তার জন্য বৃহত্তর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সমর্থন করছে, এবং স্থগিত হওয়া পরিকল্পনাটিকে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে অনিচ্ছা হিসাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা অনিশ্চিত রয়ে গেছে, উভয় পক্ষই আপস করার সামান্য লক্ষণ দেখাচ্ছে। আলোচনা চলছে, তবে অদূর ভবিষ্যতে কোনও সমাধান আশা করা যাচ্ছে না। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভবত আইনসভায় আরও আলোচনা এবং বাইরের পক্ষগুলোর দ্বারা সম্ভাব্য মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জড়িত থাকবে। এই রাজনৈতিক যুদ্ধের ফলাফল তাইওয়ানের নিরাপত্তা এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি বয়ে আনবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment