সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেক ইউরোপীয় নেতার সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যারা তার বক্তব্যকে ক্রমবর্ধমান রুক্ষ ও বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। বুধবার ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র না থাকত, তাহলে ইউরোপ জার্মান ভাষায় কথা বলত। ইউরোপের অনেকেই এই মন্তব্যকে অপমানজনক ও ভুল হিসেবে দেখেছেন।
ইউরোপীয় মিত্রদের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্যগুলো করেন, যা ইউরোপের বিষয়ে তার সমালোচনার প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়। এএফপি-র ইউরোপ বিষয়ক সংবাদদাতা নিক বেকের মতে, ব্রাসেলস থেকে বার্লিন হয়ে প্যারিস পর্যন্ত অনেকের কাছেই এই ভাষণ "আপমানজনক, কর্তৃত্বপূর্ণ এবং ভুল" মনে হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতি নিয়ে ইউরোপীয় নেতারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও, ডেনমার্ক বারবার গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় বলা সত্ত্বেও অঞ্চলটি কেনার বিষয়ে তার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি এখনও বিরোধের কারণ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যেই, ফোরামের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে তিনি আটটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে তার সর্বশেষ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করছেন।
ইউরোপের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ধারাবাহিকভাবে এর নীতি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা মূল মিত্রদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ঐতিহ্যবাহী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিপরীত। প্রেসিডেন্টের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি প্রায়শই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যার ফলে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোতে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধারাবাহিকভাবে বহুপাক্ষিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে কথা বলে আসছে, যা প্রায়শই ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর ওপর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও বিবৃতিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক সম্ভবত উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যেকার পার্থক্যগুলো মোকাবিলা করতে পারার ওপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment