অ্যাকশনএইড ইউকে তাদের শিশু স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামটি পুনরায় মূল্যায়ন করছে। এই পদক্ষেপ উন্নয়ন খাতে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সংস্থাটি তাদের কাজের "ঔপনিবেশিকরণমুক্ত" ("decolonizing") করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করছে। দাতব্য সংস্থাটির নতুন সহ-প্রধান নির্বাহী তাহরা গাজী এবং হান্না বন্ড ঐতিহ্যবাহী "একটি শিশুকে স্পন্সর করুন" মডেল থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা তাদের মতে জাতিগত বিভাজন এবং পিতৃতান্ত্রিক গতিশীলতাকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
অ্যাকশনএইডের শিশু স্পন্সরশিপ স্কিমটি ১৯৭২ সালে চালু হয়েছিল এবং এটি কয়েক দশক ধরে সংস্থাটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল সংগ্রহের হাতিয়ার। যদিও শিশু স্পন্সরশিপের সাথে সরাসরি যুক্ত নির্দিষ্ট রাজস্বের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রোগ্রামটির দীর্ঘায়ু থেকে বোঝা যায় এটি অ্যাকশনএইডের সামগ্রিক আয়ে যথেষ্ট অবদান রেখেছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে। সংস্থাটি এখন দীর্ঘমেয়াদী তৃণমূল স্তরের অর্থায়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে, যার লক্ষ্য ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপের উপর নির্ভর না করে বিশ্ব আন্দোলনের সাথে সংহতি এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।
এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সাহায্য মডেলগুলি donor দেশ এবং recipient সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতাকে প্রতিফলিত করে। এই পরিবর্তনের market impact তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, যা অন্যান্য বৃহৎ দাতব্য সংস্থাগুলি কীভাবে তহবিল সংগ্রহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তা প্রভাবিত করতে পারে। সফল হলে, অ্যাকশনএইডের নতুন পদ্ধতি আরও বেশি ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই উন্নয়ন চর্চাকে উৎসাহিত করতে পারে।
অ্যাকশনএইড ভারতে এবং কেনিয়ার স্কুলছাত্রদের সাথে স্পন্সরদের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থাটি দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিস্তৃত সমস্যা মোকাবেলায় তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করেছে। শিশু স্পন্সরশিপ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তটি সাহায্য বিষয়ক বিদ্যমান ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা এবং উন্নয়নে আরও সহযোগীতা মূলক পদ্ধতির প্রচারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। গাজী দাতাদের একটি ছবির উপর ভিত্তি করে একটি শিশু নির্বাচন করতে বলার problematic দিকটি তুলে ধরেন, এবং এটিকে "লেনদেনমূলক সম্পর্ক" ("very transactional relationship") হিসাবে বর্ণনা করেন।
ভবিষ্যতে, অ্যাকশনএইড কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মূল কারণগুলি মোকাবেলায় স্থানীয় সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে। এই নতুন কৌশলের সাফল্য দাতাদের কাছে এর দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে এবং যে দেশগুলিতে এটি কাজ করে সেখানকার সম্প্রদায়ের সাথে আস্থা তৈরি করার উপর নির্ভর করবে। সংস্থাটির নেতৃত্ব মনে করে যে এই পরিবর্তনের ফলে শেষ পর্যন্ত আরও টেকসই এবং প্রভাবশালী উন্নয়ন ফলাফল আসবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment