টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশ কয়েক বছর ধরে এই রোগে ভুগলে তাদের লোহিত রক্তকণিকাগুলিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা রক্তনালীগুলির ক্ষতি করতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। Karolinska Institutet থেকে ডায়াবেটিস জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গবেষণাটি বলছে, একজন ব্যক্তি যত বেশি দিন ধরে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ভুগবেন, তার হৃদরোগের ঝুঁকি তত বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, দীর্ঘমেয়াদী টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লোহিত রক্তকণিকাগুলি সুস্থ রক্তনালীগুলির কার্যকারিতায় বাধা দিতে শুরু করে। নতুন করে রোগ নির্ণয় করা হয়েছে এমন রোগীদের মধ্যে এই ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়। গবেষকরা রক্তকণিকার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অণুও চিহ্নিত করেছেন যা সম্ভাব্যভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রাথমিক বায়োমার্কার হিসাবে কাজ করতে পারে।
Karolinska Institutet-এর গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ [Fictional Name] ব্যাখ্যা করেছেন, "টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমনিতেই হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। আমাদের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, রোগের সময়কাল এই ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং লোহিত রক্তকণিকার পরিবর্তনগুলি একটি প্রধান কারণ হতে পারে।"
টাইপ ২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা শরীরের শর্করা (গ্লুকোজ) হজম করার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, শরীর হয় ইনসুলিনের প্রভাবকে প্রতিরোধ করে - ইনসুলিন একটি হরমোন যা আপনার কোষগুলিতে শর্করার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে - অথবা স্বাভাবিক গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। সময়ের সাথে সাথে, উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা হৃদরোগ, স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি), কিডনির ক্ষতি (নেফ্রোপ্যাথি) এবং চোখের ক্ষতি (রেটিনোপ্যাথি) সহ একাধিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
গবেষকরা জোর দিয়েছেন যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে লোহিত রক্তকণিকার এই পরিবর্তনগুলি কীভাবে হৃদরোগের কারণ হয়, তা সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও তদন্ত করা দরকার। তবে, তারা মনে করেন যে এই নির্দিষ্ট অণুটিকে চিহ্নিত করতে পারলে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য নতুন ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম তৈরি করা যেতে পারে।
ডঃ [Fictional Name] বলেছেন, "গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক সনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আগে থেকেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে তাদের হৃদরোগের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারি।"
এই গবেষণার ফলাফল রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী উভয়ের জন্যই ব্যবহারিক প্রভাব ফেলে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের ডাক্তারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত। নিয়মিত কার্ডিওভাসকুলার স্ক্রিনিংও অপরিহার্য, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই রোগে ভুগছেন।
গবেষকরা বায়োমার্কার হিসাবে চিহ্নিত অণুটির সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য এবং লোহিত রক্তকণিকার ক্ষতিকারক পরিবর্তনগুলি প্রতিরোধ বা বিপরীত করার জন্য সম্ভাব্য থেরাপিউটিক কৌশলগুলি অন্বেষণ করতে আরও গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগের বোঝা কমানো।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment