ইয়েমেনের একজন মা নাওয়াল আল-মাগাফি সাত মাস ধরে অসহনীয় নীরবতা সহ্য করেছেন, যে সময়টা তার ছেলের ভাগ্যের অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ ছিল। সে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল, ইয়েমেনের নৃশংস গৃহযুদ্ধের ছায়ায় গ্রাস হয়েছিল, এমন একটি সংঘাত যা কেবল ভূখণ্ডকেই বিধ্বস্ত করেনি, ইয়েমেনি সমাজের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। তার গল্প, অগণিত অন্যান্য গল্পের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি, একটি ভয়ানক বাস্তবতাকে তুলে ধরে: সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরে তার মিত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত গোপন কারাগারের একটি নেটওয়ার্ক।
ইয়েমেনের দশক-ব্যাপী গৃহযুদ্ধ আঞ্চলিক ক্ষমতাstruggle, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং মানবিক সংকটের সুতোয় বোনা একটি জটিল চিত্র। এই সংঘাতটি উত্তর-পশ্চিম নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহী আন্দোলন এবং সৌদি আরব-নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে সংঘটিত হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, প্রাথমিকভাবে এই জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, বাহ্যিকভাবে হুথি এবং আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দক্ষিণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে, গোপনীয় আটক কেন্দ্র পরিচালনা সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিবিসির একটি তদন্ত, যা সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশনস করেসপন্ডেন্ট নাওয়াল আল-মাগাফি এবং লিয়াম ওয়েয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে, তারা এখন প্রাক্তন ইউএই সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত আটক কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার পেয়েছে, যা এই দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে। তদন্তে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত কক্ষ, কিছু শিপিং কন্টেইনারের মধ্যে অবস্থিত যেখানে সামান্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল। বন্দিরা মারধর এবং যৌন নির্যাতনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এই কন্টেইনারগুলোর ধাতব দেয়ালে নাম ও তারিখ খোদাই করা ছিল, যা ভেতরে বন্দী থাকা ব্যক্তিদের নীরব সাক্ষ্য বহন করে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন প্রাক্তন বন্দী তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। "তারা প্রতিদিন আমাদের মারধর করত," তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁপে ওঠা কণ্ঠে বলেন। "তারা বৈদ্যুতিক শক দিত। তারা আমাদের যৌন নির্যাতন করত। আমি ভেবেছিলাম আমি ওখানেই মারা যাব।" তার সাক্ষ্য, যদিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যারা বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ধারাবাহিকভাবে ইয়েমেনে গোপন কারাগার পরিচালনা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তারা বিবিসির মন্তব্যের জন্য করা নির্দিষ্ট অনুরোধের জবাব না দিলেও, পূর্বে তারা এই ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে, বিবিসির findings অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে, যারা বারবার এই অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ইয়েমেনি সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে জোটের ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০২০ সালের গোড়ার দিকে সৈন্য প্রত্যাহার, বাহ্যিকভাবে একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও, দক্ষিণাঞ্চলে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করেছে, যা বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং শোষণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেনি সরকার, যা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে, এখন একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যেখানে প্রাক্তন মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে।
ইয়েমেনের গোপন কারাগারগুলোর উদ্ঘাটন দেশটির সীমানা ছাড়িয়েও প্রভাব ফেলে। এটি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের অন্তর্নিহিত নৈতিক দ্বিধা এবং এমনকি ভালো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার কারণেও অপ্রত্যাশিত পরিণতি ঘটার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। ইয়েমেনের যুদ্ধ একটি proxy conflict-এ পরিণত হয়েছে, যা আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে টেনে এনেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যারা এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, জবাবদিহিতা এবং সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।
"আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অভিযোগগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার এবং দায়ীদের জবাবদিহি করার দায়িত্ব রয়েছে," বলেছেন রাদিয়া আল-মুতাওয়াক্কেল, Mwatana Organization for Human Rights-এর চেয়ারপারসন, একটি ইয়েমেনি সংস্থা, যা সংঘাতের সকল পক্ষের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। "এই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই তাদের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করতে হবে।"
যেহেতু ইয়েমেন যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিণতি মোকাবেলা করতে সংগ্রাম করছে, গোপন কারাগারগুলোর উদ্ঘাটন সংঘাতের মানবিক মূল্যের একটি কঠোর অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। নাওয়াল আল-মাগাফি এবং প্রাক্তন বন্দীর মতো ব্যক্তিদের গল্প অগণিত ইয়েমেনিদের সহ্য করা কষ্টের একটি ঝলক দেখায় এবং একটি স্থায়ী শান্তির জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে যা মানবাধিকারকে সম্মান করে এবং অতীতের নির্যাতনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ তার জনগণের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার এবং একটি আরও ন্যায়সঙ্গত ও equitable society গড়ে তোলার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment