ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা, যারা মার্কিন স্টক এবং বন্ডে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ধারণ করে, তারা নাকি মার্কিন সম্পদে তাদের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করছে, যা সম্ভাব্য ঋণ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ডেনিশ পেনশন তহবিলগুলো ইতিমধ্যেই মার্কিন ঋণের বিষয়ে উদ্বেগ এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রস্তাবসহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত নীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ট্রেজারি বন্ড থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে।
ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ট্রেজারি ঋণে রয়েছে। এটি বিদেশে থাকা মার্কিন সরকারি বন্ডের প্রায় এক তৃতীয়াংশ, অথবা সামগ্রিক ট্রেজারি বাজারের প্রায় ১০%। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স উল্লেখ করেছে যে ২০১৯ সাল থেকে ইউরোপীয়দের এই বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা তাদের মার্কিন ঋণ বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় করে তুলেছে।
উদ্বেগ সত্ত্বেও, বিশ্লেষকরা মনে করেন যে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের দ্বারা ট্রেজারি বিক্রি করার সম্ভাবনা কম, কারণ এতে বাজারের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এত বিশাল পরিমাণ অর্থ বিকল্প বিনিয়োগে স্থানান্তরিত করলে সম্ভবত সেই সম্পদগুলোর দাম বেড়ে যাবে, একই সাথে মার্কিন ট্রেজারি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সম্ভাব্য ঋণ যুদ্ধে "এস্কেলেশন ডমিনেন্স" দিচ্ছে, কারণ ট্রেজারি বিক্রি করলে ইউরোপ সম্ভবত একটি বড় ধরনের বাজার ধসের সম্মুখীন হবে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে ন্যাটো মিত্রদের উপর শুল্ক আরোপের হুমকির পর এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। যদিও ট্রাম্প পরবর্তীতে শুল্কের হুমকি থেকে সরে আসেন, তবে কূটনৈতিক ও আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, যা ডলারের দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের তাদের মার্কিন বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করে।
সামনে তাকালে, মার্কিন ঋণে ইউরোপীয় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হলেও, মার্কিন রাজস্ব নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ মার্কিন সম্পদে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমাতে পারে, যা ট্রেজারি ফলন এবং ডলারের শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment