বিবিসি'র অনুসন্ধানে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোপন কারাগারগুলোর পর্দা উন্মোচন
বিবিসি'র এক অনুসন্ধানে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং এর মিত্র বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত গোপন কারাগারগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশটির দশক-ব্যাপী গৃহযুদ্ধ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে। এই অনুসন্ধানে বিবিসিকে ইয়েমেনের প্রাক্তন ইউএই সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত আটক কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ইউএই ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ফাটলের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক তদন্তকারী করেসপন্ডেন্ট নাওয়াল আল-মাগাফি জানান, তিনি দক্ষিণ ইয়েমেনের দুটি ঘাঁটিতে কক্ষগুলো দেখেছেন। বিবিসির মতে, একটি সাইটে সামান্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাযুক্ত শিপিং কন্টেইনার ছিল, যেখানে বন্দীরা ৬০ জন পর্যন্ত পুরুষের সাথে আটক থাকার কথা জানিয়েছেন। কন্টেইনারগুলোর ওপর নাম ও তারিখ খোদাই করা ছিল, যা সম্ভবত বন্দীদের দ্বারা করা হয়েছে।
একজন প্রাক্তন বন্দী বিবিসিকে জানিয়েছেন যে তাকে একটি সাইটে মারধর ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এই অনুসন্ধানে সংঘাতের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলো বহু বছরের যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটে বিধ্বস্ত একটি দেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যেকার জোট যখন দুর্বল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। এই অনুসন্ধানে ইয়েমেনের জটিল পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলো বহু বছরের যুদ্ধ এবং মারাত্মক মানবিক সংকটে জর্জরিত একটি দেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। বিবিসির প্রতিবেদনটি এই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment