২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১১ই ডিসেম্বর একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ছিল পৃথক রাজ্যগুলোকে নিজস্ব এআই আইন প্রণয়ন করা থেকে বিরত রাখা। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্য-স্তরের এআই নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ করার জন্য দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেই এই আদেশটি আসে। ট্রাম্প একটি জাতীয় এআই নীতি নিয়ে কংগ্রেসের সাথে সহযোগিতা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, যা হবে ন্যূনতম বিধিনিষেধমূলক। এর লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্র যাতে বিশ্বব্যাপী এআই অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক থাকে তা নিশ্চিত করা।
এই নির্বাহী পদক্ষেপটিকে মূলত প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা এআই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে লবিং করার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বিনিয়োগ করেছে। এই সংস্থাগুলো যুক্তি দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে একটি খণ্ডিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো উদ্ভাবনকে বাধা দেবে এবং এআই প্রযুক্তির বিকাশকে ব্যাহত করবে।
আশা করা হচ্ছে যে ২০২৬ সালে এই সংঘাত আদালতে গড়াবে, যেখানে কিছু রাজ্য সম্ভবত রাজ্য আইন অগ্রাহ্য করার জন্য ফেডারেল সরকারের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করবে। চ্যাটবটগুলোর শিশুদের উপর প্রভাব এবং বৃহৎ ডেটা সেন্টারগুলোর পরিবেশগত পদচিহ্নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের উদ্বেগের কারণে রাজ্য-স্তরে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আরও বাড়ছে। একই সময়ে, টেক শিল্পখাত এবং এআই সুরক্ষা বিষয়ক আইনজীবীদের দ্বারা অর্থায়িত রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিগুলো কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্ক বিশ্বের অন্যান্য অংশে চলমান অনুরূপ আলোচনাগুলোর প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের এআই আইন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যা এআই শাসনের জন্য একটি ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করে এমন একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক কাঠামো। এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কটি উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করার দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছে। চীনও এআই নিয়ন্ত্রণকারী বিধি-বিধান কার্যকর করেছে, বিশেষ করে ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব সনাক্তকরণ) এবং ডেটা গোপনীয়তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি লড়াই এবং কংগ্রেসের বিতর্কের ফলাফল সম্ভবত এআইয়ের বিকাশ এবং মোতায়েনের ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপীও। যুক্তরাষ্ট্র জননিরাপত্তা এবং নৈতিক বিবেচনার সাথে উদ্ভাবনের ভারসাম্য বজায় রেখে একটি জাতীয় এআই নীতি গ্রহণ করলে তা অন্যান্য দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক পদ্ধতিকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এআই শাসনের গতিপথ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর প্রভাব নির্ধারণের জন্য আগামী বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment