নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বরফ যুগে অস্ট্রেলিয়াতে বিচরণ করা দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারু, যাদের মধ্যে কয়েকটির ওজন ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ছিল, লাফাতে সক্ষম ছিল, অন্তত স্বল্প সময়ের জন্য। সাইন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পূর্বের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে যে এই বিশাল মার্সুপিয়ালগুলি দক্ষতার সাথে লাফানোর জন্য খুব ভারী ছিল, এবং জানায় তাদের পায়ের হাড় এবং টেন্ডনগুলি এই কার্যকলাপকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
আগের গবেষণা জানিয়েছিল যে ১৬০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের ক্যাঙ্গারু লাফালে তাদের গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তবে, এই নতুন গবেষণা বলছে যে এই দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুগুলি হয়তো সবসময় লাফাতো না, তবে শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে লাফানোর ক্ষমতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গবেষণা দল স্টেনুরিন (sthenurines) নামক দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুর একটি বিলুপ্ত উপ-পরিবারের কঙ্কালের গঠন বিশ্লেষণ করে তাদের লাফানোর ক্ষমতা মূল্যায়ন করেছে।
এই আবিষ্কার বৃহৎ প্রাণীদের বায়োমেকানিক্স এবং বিবর্তনীয় চাপের কারণে তাদের চলনে আসা পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। এই দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুগুলি কীভাবে চলাচল করত, তা জীবিত এবং বিলুপ্ত অন্যান্য বৃহৎ প্রাণীরা কীভাবে তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণাটি বিলুপ্ত প্রজাতির জীবন পুনর্গঠন করার সময় সম্ভাব্য আচরণগুলির একটি পরিসীমা বিবেচনা করার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
গবেষণাটি দৈত্যাকার ক্যাঙ্গারুদের লাফানোর সম্ভাবনার স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ দিলেও, তারা কত ঘন ঘন এই পদ্ধতিতে চলাচল করত এবং এর সাথে সম্পর্কিত শক্তির খরচ কত ছিল, তা নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কম্পিউটার সিমুলেশন এবং বায়োমেকানিক্যাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে এই বিলুপ্ত দৈত্যদের চলন ক্ষমতা আরও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করা যেতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment