জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল করার জন্য বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে গুতেরেস উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হ্রাসের নিন্দা জানান এবং জোর দিয়ে বলেন যে এই कटौतीগুলো বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অস্থিতিশীল করছে এবং বহুপাক্ষিকতাবাদের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে ক্রমবর্ধমান বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি অবজ্ঞা দ্বারা চিহ্নিত বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি জাতিসংঘের লক্ষ্যের ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য এবং সংঘাতের মতো জরুরি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। গুতেরেস বলেন, "যে সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সময়েই আমরা সবচেয়ে কম আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে,"। তিনি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির विरोधाভাস তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জটিল বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে মহাসচিবের এই ভাষণটি এলো। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জাতীয়তাবাদ এবং একতরফাবাদের উত্থান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা বিশেষভাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন-এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে কিছু দেশ আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও, যেখানে তহবিলের ব্যবধান বাড়ছে।
জাতিসংঘ প্রধানের মন্তব্যগুলো ২১ শতকে জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বৃহত্তর বিতর্কের প্রতিফলন ঘটায়। কিছু সমালোচক যুক্তি দেখান যে জাতিসংঘ পুরানো এবং অকার্যকর, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একমাত্র কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। গুতেরেস জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী এটিকে আরও দ্রুত এবং প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে ক্রমাগত সংস্কারের পক্ষে কথা বলছেন।
মহাসচিবের ভাষণ বিশ্ব নেতাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি সমুন্নত রাখার জন্য একটি আহ্বান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের বিভেদ কাটিয়ে উঠতে এবং বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আগামী সপ্তাহগুলোতে এই বিষয়গুলোর ওপর আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment