দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাওয়া আটলান্টিক অরণ্যে মশা মানুষের বসতি অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। ফ্রন্টিয়ার্স-এ প্রকাশিত ২০২৬ সালের ১৫ই জানুয়ারীর গবেষণা অনুসারে, অনেক প্রজাতি এখন বনের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর পরিবর্তে মানুষকেই খাদ্য হিসেবে বেশি পছন্দ করছে। এই আচরণগত পরিবর্তন ডেঙ্গু ও জিকার মতো বিপজ্জনক ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে বনের কাছাকাছি বসবাস করা জনগোষ্ঠীতে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে বনভূমি ধ্বংস এই পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ, যা নীরবে রোগের গতিপথ পরিবর্তন করছে। মানুষের উন্নয়নের কারণে আটলান্টিক অরণ্য সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় মশা রক্তের প্রধান উৎস হিসেবে মানুষের দিকে ঝুঁকছে, যা মশা বাহিত রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করতে পারে। আটলান্টিক অরণ্য, যা একসময় ব্রাজিলের উপকূল জুড়ে বিস্তৃত ছিল, তা তার মূল আকারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে, যা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের জীবনধারণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।
এই গবেষণাটি তুলে ধরেছে যে কীভাবে পরিবেশগত পরিবর্তন, যেমন বনভূমি ধ্বংস, জনস্বাস্থ্যের উপর অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকরা মশার খাদ্য গ্রহণের ধরণ ট্র্যাক করতে এবং বনের আচ্ছাদনের সাথে সেগুলোর সম্পর্ক নির্ণয় করতে অত্যাধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ কৌশল ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে মশার রক্তের নমুনা এবং পরিবেশগত ডেটার বৃহৎ ডেটাসেট বিশ্লেষণ করার জন্য এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাদের রক্তের উৎস এবং বিভিন্ন মশা প্রজাতির বিস্তৃতি চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ আনা সিলভা বলেন, "আমাদের অনুসন্ধান বনভূমি ধ্বংস এবং মশা বাহিত রোগের ঝুঁকির মধ্যে একটি সরাসরি যোগসূত্র প্রকাশ করে। "যেহেতু আমরা প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস করা চালিয়ে যাচ্ছি, তাই আমরা রোগের বিস্তার এবং উদ্ভবের নতুন সুযোগ তৈরি করছি।"
এই গবেষণার তাৎপর্য আটলান্টিক অরণ্যের বাইরেও বিস্তৃত। বনভূমি ধ্বংস একটি বৈশ্বিক সমস্যা, এবং মশার এই ধরনের পরিবর্তনের ধরণ অন্যান্য অঞ্চলেও ঘটতে পারে যেখানে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। এটি সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষাকে রোগ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রোগের প্রাদুর্ভাব বোঝা এবং ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এআই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশগত এবং মহামারী সংক্রান্ত ডেটার মধ্যেকার ধরণগুলো সনাক্ত করার জন্য মেশিন লার্নিং মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যা বিজ্ঞানীদের কোথায় এবং কখন প্রাদুর্ভাব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে তা জানতে সাহায্য করে। এই মডেলগুলো মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং টিকাদান অভিযানের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কৃষি, কাঠ সংগ্রহ এবং নগরায়নের কারণে আটলান্টিক অরণ্যের বর্তমান অবস্থা এখনও বিপজ্জনক। ভবিষ্যতের গবেষণা নির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে যা কিছু সম্প্রদায়কে মশা বাহিত রোগের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে এবং প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্যযুক্ত পদক্ষেপ তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা মশার সংখ্যা নিরীক্ষণ এবং রিয়েল-টাইমে রোগ সংক্রমণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে এআই-চালিত সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment