প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করা, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা এবং ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির মতো সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ঐতিহাসিক বৈদেশিক নীতি মতবাদগুলির অবতারণা করেছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে মাদুরোকে বন্দী করা হয়েছে এমন কার্যকলাপের কারণে যা "দুই শতাব্দীর বেশি সময় আগেকার মনরো ডকট্রিনের আমেরিকান বৈদেশিক নীতির মূল নীতিগুলির চরম লঙ্ঘন"।
১৮২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো কর্তৃক প্রণীত মনরো ডকট্রিন, ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে আমেরিকাতে আরও উপনিবেশ স্থাপন বা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনরো ডকট্রিনকে "অতিক্রম" করেছে, এবং তার এই পদ্ধতিকে "'ডনরো ডকট্রিন'" হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
এই পদক্ষেপ এবং এর স্বপক্ষে যুক্তিগুলি প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের "বিগ স্টিক" কূটনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও জোর দিয়েছিল। রুজভেল্টের এই দৃষ্টিভঙ্গি, "নরম সুরে কথা বলো এবং একটি বড় লাঠি রাখো" ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গোলার্ধীয় পুলিশ শক্তি হিসাবে দেখা হত।
কিছু বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষক যুক্তি দেখান যে ট্রাম্পের এই পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী কূটনীতি থেকে সরে আসা, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এটি পশ্চিমা গোলার্ধে তার স্বার্থ রক্ষার একটি দীর্ঘস্থায়ী আমেরিকান ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। সমালোচকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধমকের কৌশল অবলম্বন এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন। তবে সমর্থকরা মনে করেন যে মার্কিন স্বার্থ এবং জাতীয় সুরক্ষা রক্ষার জন্য তার এই পদক্ষেপগুলি প্রয়োজনীয়।
ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতি সিদ্ধান্তের ফলাফল এখনও দেখার বাকি, তবে এটি বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং মনরো ডকট্রিনের মতো ঐতিহাসিক মতবাদগুলির উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড এবং ইরানের সাথে বর্তমান সম্পর্ক অনিশ্চিত, এবং ভবিষ্যতের ঘটনাগুলি সম্ভবত চলমান আলোচনা এবং রাজনৈতিক বিবেচনার উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment