গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে বিরল এক ঘটনায় মহাবিপন্ন প্রজাতির মধ্যে আশার আলো দেখিয়ে দুটি পাহাড়ি গরিলা শাবকের জন্ম হয়েছে। নবজাতক দুটিই পুরুষ এবং তারা তাদের মা মাফুকোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে, তবে রোগ, চোরাশিকারিদের পাতা ফাঁদ এবং শিশু হত্যার হুমকি সহ তাদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ভিরুঙ্গাতে গরিলা পর্যবেক্ষণ প্রধান জ্যাক কাতুতু মাফুকোর বাহুতে যমজ শাবকদের দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি ১৫ বছর ধরে রেঞ্জার হিসেবে কাজ করার সময় অসংখ্য গরিলা শাবকের জন্ম দেখেছেন, তবে দুর্বল শিশুগুলোকে দেখে তিনি বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। কাতুতু জোর দিয়ে বলেন যে পাহাড়ি গরিলাদের মধ্যে শিশু মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণে যমজ শাবকদের জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাহাড়ি গরিলা বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রাইমেট প্রজাতি, যাদের আনুমানিক সংখ্যা ১,০০০-এর কিছু বেশি। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক এই গরিলাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, তবে মানুষের কার্যকলাপের কারণে তাদের জীবন ক্রমাগত হুমকির মুখে। চোরাশিকারি বিরোধী টহল এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা কর্মসূচী সহ সংরক্ষণ প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গরিলাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। যমজ শাবকের জন্ম বিরল হলেও, এই সংরক্ষণ উদ্যোগগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গরিলা শাবকের যমজ হয়ে জন্ম দেওয়াটা বিরল; গরিলা সাধারণত একটি শাবকের জন্ম দেয়। যমজ গরিলা শাবকের বেঁচে থাকার হার একটি করে জন্ম নেওয়া শাবকের চেয়ে কম, কারণ মাকে উভয় শিশুর জন্য পর্যাপ্ত যত্ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হয়। ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জার্সরা মাফুকো ও তার যমজ শাবকদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা ও হস্তক্ষেপ করছেন।
নবজাতক গরিলা শাবকদের বেঁচে থাকার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের পর্যবেক্ষণ প্রচেষ্টা জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য হুমকিগুলো কমাতে কাজ করছে। এই যমজ শাবকদের সফল প্রতিপালন বিপন্ন পাহাড়ি গরিলাদের রক্ষা ও সংরক্ষণের চলমান প্রচেষ্টায় একটি বড় পদক্ষেপ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment