ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার উপস্থিতিতে প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং শুল্ক বিরোধের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তি।
মার্কোসুর জোট আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ে নিয়ে গঠিত। এই চুক্তিটির লক্ষ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং দুটি অঞ্চলের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, যেখানে সম্মিলিতভাবে ৭০ কোটির বেশি মানুষ রয়েছে এবং যা বিশ্ব জিডিপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সমর্থকদের মতে, এই চুক্তি অটোমোবাইল থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করবে, যা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে।
তবে, এই চুক্তি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় কৃষকদের কাছ থেকে, যারা দক্ষিণ আমেরিকার কৃষি আমদানি থেকে প্রতিযোগিতার আশঙ্কা করছেন। উদাহরণস্বরূপ, হাজার হাজার আইরিশ কৃষক এই চুক্তির প্রতিবাদ করেছেন এবং তাদের জীবিকার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোও মার্কোসুর দেশগুলোতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আমাজন রেইনফরেস্টে বন উজাড় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চুক্তিটিকে এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি পেতে হবে এবং মার্কোসুর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইনসভা কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া কয়েক বছর ধরে চলতে পারে এবং উভয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও কৃষি নিয়ে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা থাকায় এর সাফল্য নিশ্চিত নয়। ইইউ রাষ্ট্রগুলো মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তির প্রতি তাদের অনুমোদনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment