গ্রীনল্যান্ডের উপর আমেরিকান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার কারণে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি আটটি ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা পণ্যের উপর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১০% আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুসারে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড। তিনি আরও বলেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে "গ্রীনল্যান্ডের সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক ক্রয়"-এর বিষয়ে কোনও চুক্তি না হয়, তবে জুনের ১ তারিখ থেকে এই শুল্ক ২৫%-এ বাড়ানো হবে।
প্রস্তাবিত শুল্কগুলো ট্রাম্প এবং প্রধান ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে চলমান বিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই ঘটনাটি জোটের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ১৯৪৯ সাল থেকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি বারবার গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গ্রীনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরে এই ঘোষণাটি আসে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে গ্রীনল্যান্ডবাসীদের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে, যা সম্ভাব্য মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে জনগণের অনুভূতিকে প্রতিফলিত করে।
এই বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব অর্থনীতির বাইরেও বিস্তৃত। শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যা সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে পরিচালিত করতে পারে। উপরন্তু, এই বিরোধ আটলান্টিক পারের সম্পর্ক এবং ন্যাটো জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং ফেব্রুয়ারির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার উপর কড়া নজর রাখছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment