তেল শিল্প বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ইয়ারগিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং তেলের জন্য তার সরবরাহ চেইন সুরক্ষিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যার আংশিক কারণ হলো খনিজ খাতে চীনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ। ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইয়ারগিন বিদ্যুতায়ন, ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, সেলফোন এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অত্যাবশ্যকীয় তামা জাতীয় খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
ইয়ারগিন যুক্তি দেখান যে, সরবরাহ চেইনের স্বাধীনতার এই আকাঙ্ক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করছে, যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ডের মতো অঞ্চলে পদক্ষেপের পেছনের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলি এখনও জটিল। যুক্তরাষ্ট্র তেল ও খনিজগুলির উৎসকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে বলে জানা গেছে, যা ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড, ইরান এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
সম্পদ নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতিফলন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাবশ্যকীয় উপকরণগুলির জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে দেশীয় খনিজ সম্পদ উন্নয়নের সুযোগ সন্ধান করা এবং একটি স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা।
ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দিষ্ট নীতিগুলি বিভিন্ন ব্যাখ্যার বিষয় হলেও, ইয়ারগিন মনে করেন যে সম্পদ বিষয়ক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভেনেজুয়েলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রশাসন সমালোচিত হয়েছে, কেউ কেউ বলছেন যে নিষেধাজ্ঞার কারণে মানবিক সংকট আরও বেড়েছে, আবার কেউ কেউ বলছেন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার জন্য চাপ দেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে, গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা সার্বভৌমত্ব এবং পরিবেশগত উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির দেশীয় খনন ও প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহিত করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারমিটিং প্রক্রিয়াগুলিকে সুবিন্যস্ত করা এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা। এই প্রচেষ্টাগুলির লক্ষ্য হলো বিদেশী উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মার্কিন খনিজ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
এই পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, চলমান আলোচনা এবং নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ কৌশল ভবিষ্যতের রূপ নিচ্ছে। খনিজ এবং তেল কতটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে চালিত করবে, তা সম্ভবত ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা এবং সম্পদ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment