তেল শিল্প বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ইয়ারগিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ তেল ও খনিজ সম্পদের জন্য স্বাধীন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যার আংশিক কারণ হল খনিজ খাতে, বিশেষ করে তামার ক্ষেত্রে চীনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ। ইয়ারগিন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড এবং ইরানের মতো অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
তেলের অর্থনীতিতে একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ইয়ারগিন মনে করেন, বিদ্যুতায়ন, ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, সেলফোন এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজগুলির উপর চীনের নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বব্যাপী তেল ও খনিজ সম্পদের উপর তার প্রভাব বিস্তারে উৎসাহিত করছে। তিনি মনে করেন ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং গ্রিনল্যান্ডে তাদের আগ্রহ, যদিও এর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো অস্পষ্ট, চীনের কাছ থেকে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বাধীনতা অর্জনের বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির জন্য বিদেশী উৎসের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ। এই খনিজগুলি প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যক। মার্কিন সরকার বিদেশী সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন কৌশল অনুসন্ধান করছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশীয় খনির প্রকল্পে বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ এবং খনিজ সমৃদ্ধ দেশগুলির সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
বিপুল তেল মজুদ সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সরকারের তেল রাজস্বের প্রাপ্তি সীমিত করতে এবং একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কারো কারো মতে, এই পদক্ষেপগুলো ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের উপর বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ লাভের প্রচেষ্টা, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অবস্থান গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রচারের উপর জোর দেয়।
একইভাবে, উল্লেখযোগ্য খনিজ সম্পদের অধিকারী গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ তার কৌশলগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ডেনমার্ক সরকার, যা গ্রিনল্যান্ড শাসন করে, অঞ্চলটির উপর এবং এর সম্পদের উপর তাদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে।
পৃথিবীর খনিজগুলির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও তীব্র হবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ এই সম্পদগুলোর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের সংঘাতের কারণে স্বাধীন সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভবত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে তার অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত লক্ষ্যগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রচেষ্টা সম্ভবত দেশটির ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতিকে রূপ দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment