গ্রীনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার চেয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বেশি ঐক্য ঘটাতে পারে, ডেমোক্র্যাটরা এমনটাই মনে করেন। কারণ ট্রাম্পের জোরালো পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি বাড়ছে। ক্যাপিটল হিল এবং আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের "একলা চলো" নীতির সম্ভাব্য প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের জোটগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই মূল্যায়ন এসেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রীনল্যান্ড কেনার বিষয়ে বারবার যে পরামর্শ দিয়েছেন, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা সক্রিয়ভাবে তার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন। কিছু রিপাবলিকান এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন, যা প্রশাসনের নীতিগুলোর ওপর তাদের வழக்கিক অবস্থানের থেকে ভিন্ন। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাটো-র গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখা, ডেনমার্কের ওপর মার্কিন হামলা প্রতিরোধ করার জন্য ডিজাইন করা বিলের প্রস্তাবনা এবং দ্বিদলীয় কংগ্রেসীয় প্রতিনিধিদলের কোপেনহেগেন সফর, যেখানে তারা ডেনিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন।
ডালাওয়েরের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন যে ডেনিশ ভূখণ্ডের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে। কুনস উত্তেজনা কমাতে এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলোতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ডেনমার্কে দ্বিদলীয় সফরের আয়োজন করেছিলেন।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং বহুপাক্ষিকতাবাদের গুরুত্ব নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ন্যাটো, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ তিনি কিছু সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় লক্ষ্যমাত্রার প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে অঞ্চল অধিগ্রহণের সম্ভাবনা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্পদ প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে অঞ্চলটি ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব লাভ করেছে।
আর্কটিক অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে, যেখানে রাশিয়া, কানাডা এবং ডেনমার্কের মতো দেশগুলো প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। কৌশলগত অবস্থানের অধিকারী এই অঞ্চলটিতে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে মনে করা হয়। গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
গ্রীনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা প্রস্তাবের প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রিপাবলিকান দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদকে প্রতিফলিত করে। যদিও অনেক রিপাবলিকান ঐতিহ্যগতভাবে একটি শক্তিশালী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং জোরালো পররাষ্ট্রনীতি সমর্থন করেছেন, তবে কেউ কেউ একতরফা পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক, যা জোটগুলোকে দুর্বল করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করতে পারে। আগামী সপ্তাহগুলোতে ক্যাপিটল হিলে আরও বিতর্ক এবং কৌশল দেখা যেতে পারে, কারণ আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রনীতির প্রতি প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment