গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিতর্ক পুনরায় উস্কে দিয়ে এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আলোড়ন সৃষ্টি করে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পূর্বে আর্কটিক অঞ্চলটি অধিগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি আন্তর্জাতিক বিষয়গুলির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে।
সিবিএস নিউজ, বিবিসির মার্কিন অংশীদার কর্তৃক নিশ্চিত হওয়া এই বিতর্কের সূত্রপাত স্টোরে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুবের একটি বার্তার মাধ্যমে। মার্কিন গণমাধ্যম অনুসারে, ট্রাম্পের জবাব ছিল: "যেহেতু আপনাদের দেশ আমাকে ৮টি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই শান্তি রক্ষার বাধ্যবাধকতা আমি আর অনুভব করি না। যদিও এটি সবসময় প্রধান বিবেচ্য বিষয়, এখন আমি 'যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো এবং উপযুক্ত' এমন কিছু নিয়ে ভাবতে পারি।" তিনি আরও যোগ করেন, "গ্রীনল্যান্ডের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।"
প্রধানমন্ত্রী স্টোরে স্পষ্ট করেছেন যে নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ে সরকার নয়, একটি স্বাধীন কমিটি প্রদান করে। এ বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোрина মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে ট্রাম্পের পূর্বের আগ্রহকে সামনে নিয়ে আসে, যা ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। সে সময়, ট্রাম্পের প্রশাসন দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে এটি অধিগ্রহণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল।
গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের মধ্যে এর অবস্থানের কারণে। সামরিক এবং বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ধারণা করা হয় দ্বীপটিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ, তেল এবং গ্যাস মজুদ রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রমবর্ধমান মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
University of Oslo-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আনা ওলসেন বলেন, "নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং গ্রিনল্যান্ডের উপর তার নতুন করে মনোযোগ বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে একটি লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে।" "এটি এমন একটি ধারণার ইঙ্গিত দেয় যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বার্থ ব্যক্তিগত স্বীকৃতির সাথে জড়িত।"
ড্যানিশ সরকার ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে আসছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, "গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশ নয়। গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডীয়দের।" এই অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের জনগণের ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণকে প্রতিফলিত করে, যারা ধীরে ধীরে তাদের নিজস্ব বিষয়গুলির উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আর্কটিক নিরাপত্তার উপর বৃহত্তর প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলটি ক্রমশ সহজলভ্য হওয়ায় এর সম্পদ এবং কৌশলগত প্রভাবের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারে, যা রাশিয়া, কানাডা এবং ডেনমার্কসহ অন্যান্য আর্কটিক দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্পের বার্তার তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনো দেখার বিষয়, তবে এটি আর্কটিক অঞ্চলে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির মধ্যে জটিল সম্পর্ককে স্মরণ করিয়ে দেয়। গ্রিনল্যান্ড এবং সামগ্রিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সম্ভবত জাতিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment