উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি, সপ্তম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন, যারা সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। সরকারি ফলাফলে ৭২% ভোট পেয়ে জয়ী মুসেভেনি রবিবার এই বিবৃতি দেন। এর আগে আফ্রিকান নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। এই সমালোচনার কারণ হলো বিরোধী দলের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন এবং নির্বাচন চলাকালীন দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া।
বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন, যার আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি, শনিবার তার বাসভবনে পুলিশের অভিযান এড়িয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার দাবি করার পর থেকে তার অবস্থান এখনও অস্পষ্ট। সরকারি ফলাফল অনুসারে ২৫% ভোট পাওয়া ওয়াইন এর আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে জানায় ওয়াইন তার বাড়িতেই আছেন, একই সাথে সাংবাদিকদের ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মুসেভেনি তার সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করতে এগুলো প্রয়োজনীয় ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন যে সরকারের পদক্ষেপ ভিন্নমতকে দমন করেছে এবং নির্বাচনের ন্যায্যতাকে দুর্বল করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিন্দা জানিয়েছেন, যারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে এটি নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার এবং অবাধে যোগাযোগের ক্ষমতাকে সীমিত করেছে।
আফ্রিকান নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোট গণনায় অনিয়মের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের অসংখ্য ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্বাচনের পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জালিয়াতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ববি ওয়াইনের বর্তমান অবস্থা এখনও একটি বিতর্কিত বিষয়, পুলিশ এবং তার নিজ দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকার এখনও পর্যন্ত একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অনিশ্চিত, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্ভবত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং উগান্ডায় জবাবদিহিতা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment