বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়া, শুল্ক এবং প্রতিশোধের মাধ্যমে খেলা একটি ডিজিটাল দাবা খেলার মতো, ক্রমশ বাড়ছে। কল্পনা করুন এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে সুপ্রিম কোর্ট, আইনি বিরোধের চূড়ান্ত সালিশকারী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদ্যমান শুল্ক বাতিল করে দিয়েছে। এর পরে কী হবে? যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ারের মতে, প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, প্রায় তাৎক্ষণিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসন বাতিল হওয়া শুল্কের জায়গায় নতুন শুল্ক বসাতে প্রস্তুত, সম্ভবত পরের দিনই।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: একটি সরকার কীভাবে এত দ্রুত একটি জটিল আইনি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে? এর উত্তর আংশিকভাবে, এআই-চালিত নীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক মডেলিংয়ের ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততার মধ্যে নিহিত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারগুলোও সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করতে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। এই ক্ষেত্রে, এটি ইঙ্গিত করে যে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত বিভিন্ন আইনি পরিস্থিতি মডেলিং করতে এবং বিকল্প শুল্ক কৌশল আগে থেকেই প্রোগ্রাম করে রাখতে এআই ব্যবহার করেছে।
ট্রাম্পের শুল্কের আইনি ভিত্তি ১৯৭৭ সালের একটি আইন, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)। সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে মূল্যায়ন করছে যে এই আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত কিনা। গ্রিয়ার সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুকূল রায় হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে, তিনি আরও জানান যে প্রশাসন শুল্ক আরোপের জন্য একাধিক আইনি পথ অনুসন্ধান করেছে, যা সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলো এড়ানোর জন্য একটি সক্রিয় পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়। গ্রিয়ার বলেন, "বাস্তবতা হলো প্রেসিডেন্ট তার বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করতে যাচ্ছেন," যা বাণিজ্য সরঞ্জাম হিসেবে শুল্ক ব্যবহারের প্রতি প্রশাসনের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেয়।
বাণিজ্য নীতিতে এআই-এর ব্যবহার তার প্রভাবমুক্ত নয়। একদিকে, এটি আরও দ্রুত এবং ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়। এআই অ্যালগরিদমগুলো বাণিজ্য প্রবাহ, অর্থনৈতিক সূচক এবং আইনি নজিরগুলোর বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে সর্বোত্তম শুল্ক কৌশল চিহ্নিত করতে পারে। তারা অর্থনীতির বিভিন্ন খাত এবং বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাবও অনুমান করতে পারে। এই সক্ষমতা নীতিনির্ধারকদের তাদের বাণিজ্য নীতিগুলো সূক্ষ্মভাবে সাজাতে এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতিগুলো কমাতে সাহায্য করে।
তবে, এআই-এর ওপর নির্ভরতা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। যদি শুল্কের সিদ্ধান্তগুলো জটিল অ্যালগরিদম দ্বারা চালিত হয়, তবে এর পেছনের যুক্তি জনসাধারণের জন্য বোঝা কঠিন হতে পারে। তাছাড়া, এআই মডেলগুলো শুধুমাত্র সেই ডেটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা দিয়ে সেগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যদি ডেটা পক্ষপাতদুষ্ট বা অসম্পূর্ণ হয়, তবে এর ফলে তৈরি হওয়া শুল্ক নীতিগুলো অন্যায্য বা অকার্যকর হতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ড. অন্যা শর্মা বলেন, "এআই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করছে।" "এটি সরকারগুলোকে দ্রুত এবং আরও ভালোভাবে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করছে, তবে এর জন্য নৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলোও সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।" ড. শর্মা বাণিজ্য নীতিতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এআই-এর সাম্প্রতিক অগ্রগতি এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, জেনারেটিভ এআই মডেলগুলো এখন বাণিজ্য চুক্তিগুলোর খসড়া তৈরি করতে এবং বিভিন্ন বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাব অনুকরণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মডেলগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে এবং বাণিজ্য বিরোধগুলো সমাধানের জন্য কৌশল তৈরি করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সামনের দিকে তাকালে, বাণিজ্য নীতিতে এআই-এর ভূমিকা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআই প্রযুক্তি ক্রমাগত উন্নতির সাথে সাথে, সরকারগুলো বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার জটিলতাগুলো মোকাবেলা করার জন্য এটির ওপর আরও বেশি নির্ভর করবে। চ্যালেঞ্জ হবে এআই-এর ক্ষমতাকে কাজে লাগানো, একই সাথে নিশ্চিত করা যে বাণিজ্য নীতিগুলো ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং সবার জন্য উপকারী। শুল্কের ওপর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি দ্রুত, এআই-সহায়ক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাণিজ্য নীতির বিবর্তনকে তুলে ধরে, যা সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ এবং সক্রিয়ভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দাবি রাখে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment