মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিনি নরওয়ের নোবেল কমিটির কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে একটি প্রেরণাদায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রবিবার রাতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প আগের বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ট্রাম্পের বার্তায় বলা হয়েছে, "যেহেতু আপনাদের দেশ ৮টি যুদ্ধ থামানোর পরেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই শান্তি নিয়ে ভাবার বাধ্যবাধকতা আমি আর অনুভব করি না। যদিও শান্তি সবসময়ই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে, তবে এখন আমি আমেরিকার জন্য ভালো ও উপযুক্ত কী, তা নিয়েও ভাবতে পারি।" এই বার্তা থেকে প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেখানে সম্ভবত মার্কিন স্বার্থকে আরও স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গ্রিনল্যান্ডে নতুন করে আগ্রহের সূত্রপাত ২০১৯ সালের আগের কিছু প্রতিবেদন থেকে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চলটি কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল। সে সময় গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয়েই এই ধারণার বিরোধিতা করেছিল এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই প্রস্তাবকে "অ absurd" বলে অভিহিত করেছিলেন।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনার ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগতভাবে অবস্থিত এবং এখানে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে আর্কটিক অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটি আরও সহজলভ্য হওয়ায়।
ড্যানিশ সরকার এখনও ট্রাম্পের সর্বশেষ বিবৃতির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ডেনমার্কের অবস্থানের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের একজন সিনিয়র গবেষক ডক্টর লিসবেথ এগহোম বলেছেন, "ডেনমার্ক খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।" "যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন আগ্রহ সম্ভবত দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলবে।"
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে। ট্রাম্প বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি সম্ভবত এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলবে। গ্রিনল্যান্ড উদ্যোগের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment