অক্সফ্যামের একটি নতুন প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী সম্পদ বৈষম্যের একটি তীব্র বৃদ্ধি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে বিক্ষোভের মধ্যে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে, রেকর্ড সংখ্যক বিলিয়নেয়ার এবং তাদের সম্মিলিত সম্পদের উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অক্সফ্যামের বার্ষিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩,০০০ ছাড়িয়েছে। তাদের সম্মিলিত সম্পদ $১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালে ছিল $১০.১ ট্রিলিয়ন ডলার। অক্সফ্যাম জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদে $৮.২ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব থেকে ২৬ বার দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে সরকারগুলো कथितভাবে ধনীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যার ফলে এমন নীতি তৈরি হচ্ছে যা বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে সম্পদের কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি বাজারের গতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বিশাল আর্থিক সম্পদ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, সম্ভাব্যভাবে নির্দিষ্ট শিল্প বা ব্যক্তিদেরFavor করার জন্য প্রবিধান এবং অর্থনৈতিক কৌশল তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাজারের বিকৃতি, প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
অক্সফ্যামের প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন অনেক কর্পোরেশন তাদের সামাজিক সমস্যাগুলোতে ভূমিকার জন্য ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। দাভোসের বিক্ষোভগুলো ক্রমবর্ধমান জনমতকে তুলে ধরেছে যে কিছু সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট থেকে লাভবান হচ্ছে, একই সাথে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। এই ধারণা ব্র্যান্ডের খ্যাতি নষ্ট করতে পারে, গ্রাহকের আস্থা হ্রাস করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে নিয়ন্ত্রক তদারকি বাড়াতে পারে।
সামনের দিকে তাকালে, ক্রমবর্ধমান সম্পদ কেন্দ্রীকরণের এই ধারা সম্ভবত অব্যাহত থাকবে যদি না সরকার বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে নীতি বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে প্রগতিশীল কর, কর্পোরেট লবিংয়ের উপর আরও কঠোর বিধি এবং সামাজিক কর্মসূচিতে বর্ধিত বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদি এই প্রযুক্তিগুলোর সুবিধাগুলো справедливоভাবে ভাগ করা না হয়, তাহলে এআই এবং অটোমেশনের উত্থান সম্পদের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এআই-এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, একই সাথে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা হ্রাস করা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment