উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি, সপ্তম মেয়াদে জয়লাভের পর রবিবার বিজয় ভাষণে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের "সন্ত্রাসী" আখ্যা দিয়েছেন। সরকারি ফলাফলে দেখা যায় মুসেভেনি ৭২% ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
আফ্রিকার নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের কথা উল্লেখ করে এই নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন, যাঁর আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি, শনিবার তাঁর বাড়িতে পুলিশি অভিযান থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে দাবি করার পর থেকে তাঁর অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। ২৫% ভোট পাওয়া ওয়াইন এর আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন।
পুলিশ ওয়াইনের বাসভবনে অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে যে তিনি বাড়িতেই আছেন, তবে একই সাথে সাংবাদিকদের ওই সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মুসেভেনির সরকার তাদের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে যে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা প্রয়োজন ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন যে এই ব্যবস্থাগুলো ভিন্নমতকে দমন করেছে এবং নির্বাচনের ন্যায্যতাকে দুর্বল করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনের পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কথিত অনিয়মের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াইন, একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া মুসেভেনির দীর্ঘদিনের শাসনের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে ওয়াইন এবং তাঁর সমর্থকরা গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন, যা সরকার আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।
বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, ওয়াইনের অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয় এবং বিরোধীরা ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং এর বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন। এই তদন্তের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত আগামী মাসগুলোতে উগান্ডার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে রূপ দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment