যুক্তরাজ্য সরকার মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে দেওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি পুনরায় ইজারা নেওয়ার চুক্তিকে সমর্থন করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার পর এই সমর্থন জানায় তারা। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে এই পরিকল্পিত হস্তান্তরকে "মারাত্মক বোকামি" হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও এর আগে তিনি এবং ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে তিনি নিশ্চিত করেন যে তিনি এই চুক্তির "বিপক্ষে"।
যুক্তরাজ্য সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে যে তারা "আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে কখনই আপস করবে না"। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই চুক্তিকে সমর্থন করে। মে মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড (৪.৬ বিলিয়ন ডলার)-এর একটি বন্দোবস্ত রয়েছে, যার অধীনে যুক্তরাজ্য দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম ডিয়েগো গার্সিয়াতে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
এই চুক্তির লক্ষ্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের নিষ্পত্তি করা। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ১৯৬৮ সালে মরিশাসের স্বাধীনতার তিন বছর আগে ১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্য মরিশাসের কাছ থেকে আলাদা করে নেয়। এরপর যুক্তরাজ্য ডিয়েগো গার্সিয়াতে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে, যা যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ।
মরিশাস ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়ে আসছে যে দ্বীপপুঞ্জের উপর যুক্তরাজ্যের অব্যাহত প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায় দেয় যে যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া উচিত। যুক্তরাজ্য এই রায়কে স্বীকার করলেও এই চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করেনি।
ট্রাম্পের সমালোচনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে, ডিয়েগো গার্সিয়াতে যুক্তরাজ্য-মার্কিন সামরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য এই ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সরকার জোর দিয়ে বলছে যে মরিশাসের সাথে চুক্তিতে ঘাঁটির অব্যাহত পরিচালনা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার বিধান রয়েছে। ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ভারসাম্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সহ পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment