গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রহের জেরে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে, যা বিশ্ব বাজারে মন্দা ডেকে আনে। এস&পি ৫০০ ২.১ শতাংশ কমে যায়, যা সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।
ডাউ জোনস ইন্ডস্ট্রিয়াল এভারেজ-এর ব্যাপক বিক্রির কারণে এটিরও দ্রুত পতন ঘটে। মার্কিন ডলারের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে দুর্বল হয়ে যায়, যা ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে অর্থনৈতিক পতনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। গ্রিনল্যান্ড বিক্রির আলোচনা করতে অস্বীকার করলে ডেনমার্ক এবং অন্য সাতটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি বাজারের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আটলান্টিক বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের উপর শীতল প্রভাবের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং আর্কটিকে চীনা ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলার যুক্তিতে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পক্ষে প্রেসিডেন্টের যুক্তি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাজার এই পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংঘাতপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে।
এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গির বিদ্যমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা চলমান বাণিজ্য বিরোধ এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোতে ধীরগতির কারণে ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে যে কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতিশোধমূলক শুল্ক এবং চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি বিবেচনা করছেন।
ভবিষ্যতে বাজারের গতিপথ প্রশাসনের উত্তেজনা কমাতে এবং আরও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। তবে প্রেসিডেন্টের পূর্বের আচরণ বিবেচনা করে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি স্পষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত অস্থিরতা এবং নিম্নমুখী ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে। গ্রিনল্যান্ড পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা যোগ করেছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment