মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা এই অঞ্চলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে পুনরায় উস্কে দিয়েছে। ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, রাত ৮:০০ ইউটিসি-তে প্রকাশিত এই পদক্ষেপ ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড উভয়ের কাছ থেকেই দ্রুত প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছে, যারা যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্ত সুরক্ষিত।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ, যা তিনি পূর্বে কেনার বা সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন, তা পশ্চিমা গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে চীনা ও রাশিয়ার প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলকে প্রতিফলিত করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে, তবুও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতির জন্য অপ্রচলিত এবং disruptive হিসেবে দেখছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা ইউরোপীয় নেতাদের সেই দলে যোগ দিয়েছে যারা এই অঞ্চল পরিচালনাকারী বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এই পরিস্থিতি আর্টিকের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে, যা তার কৌশলগত অবস্থান এবং প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গ্রিনল্যান্ড কেনার ধারণাটি উনিশ শতকের, যখন ১৮৬৭ সালের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ দেখিয়েছিল। ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অর্থনৈতিক সহায়তার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর কৌশলগত গুরুত্ব উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের মধ্যে এর অবস্থানের কারণে, যা সম্ভাব্য সামরিক সুবিধা এবং আর্কটিক শিপিং রুটে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
ল্যান্ড্রির নিয়োগ এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে এসেছে যখন আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়ছে, যেখানে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোও এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment