মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অনুসারে, মার্কিন সামরিক বাহিনী উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কারাগার থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপের প্রায় ৭,০০০ বন্দীকে ইরাকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী কর্তৃক পূর্বে স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার সরকার নেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে যে তারা ইতোমধ্যে হাসাহে প্রদেশ থেকে ১৫০ জন আইএস যোদ্ধাকে ইরাকের একটি "নিরাপদ স্থানে" সরিয়ে নিয়েছে। স্থানান্তরের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো বন্দীদের পালাতে এবং সম্ভাব্যভাবে পুনরায় সংগঠিত হওয়া থেকে বিরত রাখা, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটানা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
এই স্থানান্তর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলস্বরূপ হয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বেশিরভাগ অংশকে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। এই চুক্তি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর আইএস সন্দেহভাজন এবং তাদের আত্মীয়দের আবাসস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রত্যাহারের পরে করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সিরিয়ার নতুন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার সাথে বন্দি স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেন্টকমের মতে, কুপার সিরিয়ার বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বন্দীদের "সুশৃঙ্খল ও সুরক্ষিত স্থানান্তর"-এ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি আইএস-এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক ও বিচার সংক্রান্ত জটিল নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানবাধিকার সংস্থা রিপিভ বন্দীদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা সম্পর্কে। এই বন্দিদের স্থানান্তর এবং পরবর্তীকালে তাদের পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো একটি চলমান বিতর্কের বিষয়।
এই স্থানান্তর এই অঞ্চলের পরিবর্তনশীল গতিশীলতা এবং আইএস-এর সাথে সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার চলমান প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এই স্থানান্তরের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও সম্পূর্ণরূপে বোঝা যায়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত আগামী সপ্তাহগুলোতে এই স্থানান্তর কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment