২০২৬ সালের ২১শে জানুয়ারি অধিকৃত পশ্চিম তীরের শুকবা গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। এই উচ্ছেদের কারণে তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
শুকবার এক বাসিন্দার মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞকে "এক সত্যিকারের গণহত্যা" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দা আরও জানান, উচ্ছেদ শুরু হওয়ার আগে পরিবারগুলোকে খুব কম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাড়িগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে কারণ সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত হয়েছিল। ইসরায়েল মনে করে যে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-তে সুশৃঙ্খল উন্নয়নের জন্য বিল্ডিং পারমিট প্রয়োজন, যা সম্পূর্ণরূপে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিদের যুক্তি হলো, এই পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব, এবং এই উচ্ছেদ নীতি হলো ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে চাপ দেওয়ার একটি কৌশল, যা ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে আরও সহজ করে।
এরিয়া সি পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০% এবং এখানে ইসরায়েলি বসতি এবং ফিলিস্তিনি উভয় সম্প্রদায়ই রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে।
এই উচ্ছেদের ঘটনা সম্ভবত এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে আরও সমালোচনার জন্ম দেবে। এই গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের নিন্দা করে, এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে। তাদের যুক্তি হলো, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো সম্মিলিত শাস্তি এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার জন্য পরিকল্পিত একটি জোরপূর্বক পরিবেশ তৈরি করে।
জাতিসংঘ বারবার ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংস করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, মানবিক প্রভাব এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বাধার ওপর জোর দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোরImmediate ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। স্থানীয় সাহায্য সংস্থাগুলো জরুরি আশ্রয় এবং সহায়তা প্রদান করছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী housing সমাধানের প্রয়োজন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী সভায় এই ঘটনাটি উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাত নিয়ে আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment