গ্রীনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এই সপ্তাহের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় প্রাধান্য পায়, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের এই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার দাবি জানান। এই দাবি একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি করে, যেখানে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যদি না গ্রীনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্রি করার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
এই সংকট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দাভোস ফোরামের অন্যান্য আলোচ্য বিষয়কে ছাপিয়ে যায়। এই ফোরামে বৈশ্বিক নেতারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হন। প্রস্তাবিত শুল্কের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের দাবিকে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অস্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখেছে।
ড্যানমার্কের রাজ্য, যার মধ্যে গ্রীনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, ১৮১৪ সাল থেকে দ্বীপটি শাসন করছে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক, এবং এর বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, যার মধ্যে খনিজ এবং সম্ভাব্য তেল মজুদ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। দ্বীপের আদিবাসী ইনুইট জনগোষ্ঠী, যারা কয়েক শতাব্দী ধরে গ্রীনল্যান্ডে বসবাস করছে, তারাও এই অঞ্চলের মধ্যে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে।
এর আগেও গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৪৬ সালে যখন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান দ্বীপটির জন্য ডেনমার্ককে ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করেছিলেন। ডেনমার্ক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
বর্তমান অচলাবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকর সম্পর্ককে তুলে ধরে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে। ইউরোপীয় নেতারা প্রশাসনের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যদিও শুল্ক এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক হুমকি কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে, ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের উপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এই সংকট যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে আস্থা নষ্ট করেছে এবং এর ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পুনর্বিবেচনা হতে পারে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং গ্রীনল্যান্ডের মর্যাদা এবং বৃহত্তর মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment