একটি ছোট ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে, উচ্চ-ঝুঁকির ত্বকের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তৈরি কাস্টমাইজড mRNA ভ্যাকসিনগুলি স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসার চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ক্যান্সার ফিরে আসা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পেরেছে। মডার্না এবং মের্ক নামক দুটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এই পরীক্ষামূলক ক্যান্সার ভ্যাকসিন ইন্টিসমেরান অটোজিন (mRNA-4157 বা V940) নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। কোম্পানিগুলো এই সপ্তাহে শীর্ষ ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা চিকিৎসার দুই এবং তিন বছর পর ক্যান্সার ফিরে আসা এবং মৃত্যুর হারের পূর্ববর্তী বিশ্লেষণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
চলমান দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালে স্টেজ ৩ অথবা স্টেজ ৪ মেলানোমা (melanoma) ধরা পড়েছে এমন ১৫৭ জন রোগী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পরেও ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি ছিল। প্রাথমিক ঘোষণায় এই রোগীদের দেওয়া স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের আরও বিস্তারিত তথ্য আসন্ন একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।
এই উদ্ভাবন ব্যক্তিগতকৃত ক্যান্সার ভ্যাকসিনের ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ভ্যাকসিনগুলো প্রতিটি রোগীর টিউমারের অনন্য জেনেটিক গঠনের উপর ভিত্তি করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার কোষ সনাক্ত করতে এবং আক্রমণ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। mRNA প্রযুক্তি, যা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে, বর্তমানে ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের মোকাবিলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
মডার্না এবং মেরকের মধ্যে সহযোগিতা ওষুধ তৈরি এবং দক্ষতা ভাগাভাগি করার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে তুলে ধরে। এই mRNA ভ্যাকসিনের সাফল্য ক্যান্সার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, যা কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশনের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর পদ্ধতি দিতে সক্ষম।
বর্তমানে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল চলছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের তালিকাভুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কোম্পানিগুলো ভ্যাকসিনের নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের জন্য আরও কাছে যাচ্ছে। সফল হলে, এই mRNA ক্যান্সার ভ্যাকসিন মেলানোমা এবং সম্ভবত অন্যান্য ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment