গিনি-বিসাউতে আফ্রিকাতে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-তহবিলভুক্ত হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন বিষয়ক একটি গবেষণা স্থগিত করেছে। গিনি-বিসাউয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন। তারা জানান, দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এই গবেষণাটির কারিগরি ও নৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করবে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসার পরেই এই ঘোষণাটি আসে। গিনি-বিসাউয়ের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী কুইনহিন নানতোতে বলেন, "গবেষণাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সমন্বয় ছিল না। এই পরিস্থিতিতে আমরা এটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)-এর আহ্বানে একটি বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই ট্রায়ালটি আর চলবে না।
আলোচ্য গবেষণাটি ছিল হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের জন্ম-পরবর্তী ডোজ বিষয়ক। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, জন্মের পরপরই নবজাতকদের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। এই কৌশলটির লক্ষ্য ছিল মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা এবং শিশুদের দ্রুত সুরক্ষা দেওয়া। গিনি-বিসাউ ২০২৭ সালে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনের একটি সার্বজনীন জন্ম-পরবর্তী ডোজ নীতি বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।
এই স্থগিতাদেশ আফ্রিকার বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে মহাদেশটিতে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর নৈতিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে তুলে ধরে। বিদেশি সংস্থাগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণাগুলোর নকশা, বাস্তবায়ন এবং বিশ্লেষণে আফ্রিকান গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী নানতোতের সমন্বয়হীনতার অভাব আন্তর্জাতিক তহবিল সরবরাহকারী এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
গিনি-বিসাউয়ের জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পর্যালোচনা সম্ভবত গবেষণাটির নিয়মাবলী, সম্মতির প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় জনগণের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকিগুলো পরীক্ষা করবে। এটি গবেষণার পরিচালনা এবং গবেষণার বিষয় নির্ধারণে আফ্রিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করবে। এই পর্যালোচনার ফলাফল গিনি-বিসাউ এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশে ভবিষ্যতের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, যা সম্ভবত কঠোর নিয়মকানুন এবং গবেষণা কার্যক্রমের ওপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment