আর্টেমিস II মহাকাশযান, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর একটি প্রোগ্রাম, শনিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে তার উৎক্ষেপণ মঞ্চে এসে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথম ক্রু-সহ চন্দ্র কক্ষপথে মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। ইন্টিগ্রেটেড স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেট এবং ওরিয়ন মহাকাশযান, যা চারজন নভোচারীকে বহন করবে, ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি-তে ৪ মাইলের যাত্রাটি ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার ঠিক আগে সম্পন্ন করে। ১১ মিলিয়ন পাউন্ড ওজনের রকেট স্ট্যাকটির স্থানান্তরে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
আর্টেমিস II মিশনটি বৃহত্তর আর্টেমিস প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার লক্ষ্য আমেরিকান নভোচারীদের চাঁদে ফিরিয়ে আনা। এই উদ্যোগটিকে আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চন্দ্র এবং মঙ্গল গ্রহের অভিযানে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। এই মিশনের উদ্দেশ্য হল চারজন নভোচারীর একটি দলকে চাঁদের চারপাশে একটি যাত্রায় পাঠানো, যা পরবর্তী মিশনগুলোর জন্য পথ প্রশস্ত করবে এবং নভোচারীদের চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের চেষ্টা চালাবে।
আর্টেমিস প্রোগ্রাম মহাকাশ অনুসন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রতিনিধিত্ব করে, যা এই ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এই প্রোগ্রামটি বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অবদানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA) ওরিয়ন মহাকাশযানের জন্য সার্ভিস মডিউল সরবরাহ করছে, যা আধুনিক মহাকাশ অনুসন্ধানের সহযোগী প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
এই প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং বিতর্ক উভয়ই সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার সম্ভাবনার উপর জোর দেন। তবে সমালোচকরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী বৈষম্যের মতো জরুরি সমস্যাগুলোর প্রেক্ষাপটে চন্দ্র মিশনের ব্যয় এবং স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আর্টেমিস প্রোগ্রামটির নামকরণ করা হয়েছে চাঁদের গ্রিক দেবী আর্টেমিসের নামে, যা দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র অনুসন্ধানে প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের সময় মানুষ চাঁদে হেঁটেছিল। আর্টেমিস প্রোগ্রাম আধুনিক প্রযুক্তি এবং আরও বেশি সংখ্যক নভোচারী অন্তর্ভুক্ত করে অ্যাপোলো প্রোগ্রামের উত্তরাধিকারের উপর ভিত্তি করে তৈরি করতে চায়।
আর্টেমিস II মিশনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে উৎক্ষেপণ মঞ্চে চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং সিস্টেম পরীক্ষা। NASA আগামী মাসগুলোতে একটি উৎক্ষেপণের তারিখ ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বর্তমানে ২০২৫ সালের মধ্যে এই মিশনটি হওয়ার কথা রয়েছে। আর্টেমিস II-এর সফল সমাপ্তি চাঁদে একটি টেকসই উপস্থিতি তৈরি এবং মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতের মানব মিশনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment