বেইজিং সাবেক রয়্যাল মিন্ট কোর্টের সাইটটি অধিগ্রহণের আট বছর পর, ব্রিটিশ সরকার লন্ডনে চীনের একটি নতুন দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। আবাসন মন্ত্রী স্টিভ রিডের মঙ্গলবার পরিকল্পনা অনুমোদনের সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের এই মাসের শেষের দিকে চীন সফরের আগে নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের পর কোনো ব্রিটিশ নেতার এটাই প্রথম চীন সফর।
ইউরোপের বৃহত্তম চীনা দূতাবাস হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্পটি স্থানীয় বাসিন্দা, আইনপ্রণেতা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের বিরোধিতার কারণে তিন বছর ধরে স্থগিত ছিল। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বেইজিং দূতাবাসটিকে প্রভাব বিস্তারের এবং নজরদারি কার্যক্রম চালানোর জন্য ব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কার ওপর কেন্দ্র করে বিরোধিতাগুলো দানা বাঁধে। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী প্রচারকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে দূতাবাসটি যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভিন্নমত নিরীক্ষণ ও দমনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
টাওয়ার অফ লন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল মিন্ট কোর্ট সাইটের ইতিহাস দুই শতাব্দীর। দূতাবাসের নির্মাণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের যুক্তি, দূতাবাসের আকার এবং অবস্থান ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। প্রকল্পের সমর্থকরা চীনের সাথে উন্মুক্ত যোগাযোগ চ্যানেল বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যা একটি প্রধান বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তি।
এই অনুমোদন এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাজ্য এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্য, মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ চলছে। যুক্তরাজ্য সরকার চীনের মানবাধিকার রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ক্রমবর্ধমান দৃঢ়তা নিয়ে উদ্বেগের সাথে তার অর্থনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। নতুন দূতাবাসটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কূটনৈতিক কর্মী থাকার কথা এবং সম্ভবত সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং বাণিজ্য প্রচারের জন্য সুবিধাও থাকবে।
পরবর্তী ধাপে নির্মাণ কাজ শুরু হবে, তবে এর সমাপ্তির আনুমানিক তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দূতাবাসের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার জন্য সম্ভবত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে দূতাবাসের উপস্থিতি আশেপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment