বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উন্মোচন করেছেন যে কেন কিছু দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিত্সা করা সত্ত্বেও নিরাময় হতে চায় না। সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ) ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতে পাওয়া একটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়া সক্রিয়ভাবে ক্ষতিকারক অণু নির্গত করে যা ত্বকের কোষগুলোকে দুর্বল করে টিস্যু মেরামত হতে বাধা দেয়।
এনটিইউ সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষণা দল জানতে পেরেছে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে এই ক্ষতিকারক অণুগুলোকে নিষ্ক্রিয় করলে ত্বকের কোষগুলো পুনরুদ্ধার করতে এবং নিরাময় প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে পারে। এই আবিষ্কারটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত ক্ষতসহ দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত নিরাময়ের জন্য একটি নতুন আশাব্যঞ্জক পদ্ধতির সন্ধান দিয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্রমবর্ধমান বিশ্ব স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। উদাহরণস্বরূপ, ডায়াবেটিক পায়ের আলসার প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। এই ধরনের ক্ষত হওয়ার আজীবন ঝুঁকি তিনজনের মধ্যে একজনের বেশি। এই ক্ষতগুলো প্রায়শই দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, ব্যথা করে, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে অঙ্গচ্ছেদের দিকে পরিচালিত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়া কেবল অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু করে। এটি ত্বকের কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে এমন অণু নির্গত করার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে নিরাময় প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করে। এই অণুগুলো মূলত কোষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত হতে পারে না।
এনটিইউ সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ [প্রধান গবেষকের নাম] বলেছেন, "আমাদের গবেষণা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চিহ্নিত করেছে যার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্ষত নিরাময়ে বাধা দেয়।" "অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে এই ক্ষতিকারক অণুগুলোকে লক্ষ্য করে, আমরা সম্ভবত ত্বকের কোষের নিরাময় করার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারি।"
এই গবেষণার তাৎপর্য ঐতিহ্যবাহী ক্ষত পরিচর্যার বাইরেও বিস্তৃত। এই আবিষ্কার ব্যাকটেরিয়া এবং মানবদেহের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে, যা থেকে বোঝা যায় যে সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য আরও সূক্ষ্ম পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। শুধুমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ব্যাকটেরিয়া মারার দিকে মনোযোগ না দিয়ে, গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং নিরাময়ের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপায় খুঁজে বের করছেন।
ক্ষতিকারক অণুগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার চিকিৎসার কৌশলে একটি পরিবর্তন এনেছে। এই পদ্ধতি অ্যান্টিবায়োটিকের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে, যা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির কারণে ক্রমশ অকার্যকর হয়ে উঠছে।
গবেষণা দল বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের জন্য নতুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-ভিত্তিক থেরাপি তৈরি করার জন্য কাজ করছে। তারা বিলম্বিত ক্ষত নিরাময়ে অবদান রাখতে পারে এমন অন্যান্য অণু সনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এআই অ্যালগরিদমগুলো প্রচুর পরিমাণে ডেটা বিশ্লেষণ করে নিদর্শন চিহ্নিত করতে পারে এবং কোন অণুগুলো নিরাময় প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তা অনুমান করতে পারে। এটি আরও সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর চিকিত্সার বিকাশের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
গবেষণা দলের সদস্য ডঃ [এআই বিশেষজ্ঞের নাম] বলেছেন, "এআই আমাদের গবেষণায় একটি মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।" "জটিল জৈবিক ডেটা বিশ্লেষণ করতে এআই ব্যবহার করে, আমরা সম্ভাব্য থেরাপিউটিক লক্ষ্যগুলো সনাক্ত করতে পারি যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করে আবিষ্কার করা কঠিন।"
এই গবেষণার ফলাফল সমাজের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের চিকিত্সার উন্নতি করে, গবেষকরা রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর এই অবস্থার বোঝা কমাতে চান। নতুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-ভিত্তিক থেরাপির বিকাশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও টেকসই পদ্ধতিও সরবরাহ করতে পারে। পরবর্তী ধাপে মানুষের মধ্যে এই নতুন থেরাপির নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হবে। গবেষণা দল আশাবাদী যে এই ট্রায়ালগুলো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের জন্য আরও কার্যকর চিকিত্সার বিকাশের পথ প্রশস্ত করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment