ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি, তার অভিষেকের পর থেকে উচ্চারিত, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ইরান পরমাণু চুক্তির মতো চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার ঘটিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যসহ অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য বিরোধের সাথে মিলিত হয়ে বহুপাক্ষিকতা এবং বিশ্ব মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অতীতের এক ভাষণে, ট্রাম্প ১৯ শতকের "ম্যানিফেস্ট ডেসটিনি" মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, যা আমেরিকান স্বার্থ এবং সম্প্রসারণের উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে। এই বাগাড়ম্বরকে কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে বিচ্যুতি হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা ঐতিহাসিকভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচারের উপর জোর দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি, এই পরিবর্তনকে আরও বেশি করে তুলে ধরেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমাদের এটা পেতেই হবে," যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে যা কিছু মিত্রকে উদ্বিগ্ন করেছে।
ট্রাম্পের নীতির সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে তার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুন্ন করেছে। তবে সমর্থকরা মনে করেন যে তার নীতিগুলো আমেরিকান স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং জোটের মধ্যেকার অন্যায্য বাণিজ্য প্রথা ও অসম বোঝাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনও উন্মোচিত হচ্ছে, যেখানে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎের উপর তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্ক চলছে। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতা বা আরও ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক পদ্ধতির প্রত্যাবর্তন সংকেত দিতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment