রয়টার্সের মতে, কেইর স্টারমার আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ ব্যবসায়িক নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে চীন সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। বেইজিংকে লন্ডনে একটি নতুন দূতাবাস নির্মাণের জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারের পরিকল্পনার অনুমোদনের পরেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলে বিপি, এইচএসবিসি, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং রোলস-রয়েসের মতো প্রধান ব্রিটিশ কর্পোরেশনগুলির প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই সংস্থাগুলি একটি নতুন করে সাজানো ইউকে-চীন সিইও কাউন্সিলেও অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দুটি দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। কাউন্সিলের আগের সংস্করণগুলি শক্তি, ফিনান্স এবং উত্পাদন সহ বিভিন্ন খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তির দিকে পরিচালিত আলোচনাকে সহজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালে, কাউন্সিল আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তিকে সহজতর করেছিল।
ডাউনিং স্ট্রিট বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল নভেম্বরে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-এর সাথে আলোচনার জন্য বেইজিং গিয়েছিলেন, যা স্টারমারের সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফরটি যুক্তরাজ্য-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স অনুসারে, ২০২৩ সালে চীনের সাথে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮.৭ বিলিয়ন পাউন্ড। এর ফলে আরও সুষম অর্থনৈতিক সম্পর্কের আহ্বান জানানো হয়েছে। আসন্ন এই সফর এই উদ্বেগগুলি মোকাবিলার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নতুন পথ অনুসন্ধানের সুযোগ দিতে পারে।
লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাসের অনুমোদন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কিছু সমালোচক জাতীয় সুরক্ষা এবং গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে, সমর্থকরা যুক্তি দেখান যে জটিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানবাধিকার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংলাপের প্রচারের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সফরটির সময়টিও লক্ষণীয়, কারণ এটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.২%-এ নেমে এসেছে, যা বিশ্ব বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এদিকে, যুক্তরাজ্য ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি এবং ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে লড়াই করছে।
সফরটিতে সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবাগুলির মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার সুযোগগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই খাতগুলিকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসাবে দেখা হয় এবং এটি চীনা বাজারে ব্রিটিশ ব্যবসার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ দিতে পারে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলির মধ্যে সফরের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করা এবং চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে লজিস্টিক সমন্বয় করা জড়িত। আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment