জেপি মর্গান চেজ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জেমি ডিমোন সতর্ক করে বলেছেন যে, ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব "একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়" ডেকে আনতে পারে এবং এর ফলে আমেরিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের জন্য ঋণের সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডিমোন জানান, প্রস্তাবিত ১০% সুদের হারের সীমা রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রেতা, ভ্রমণ সংস্থা এবং স্কুলগুলির পাশাপাশি আমেরিকান ভোক্তাদের একটি বৃহৎ অংশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এই মাসের শুরুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবটি তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হয়েছিল, যেখানে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ২০শে জানুয়ারি থেকে শুরু করে এক বছরের জন্য ১০%-এ সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এই ধরনের সীমা কার্যকর করার প্রক্রিয়া বা এর আইনি বৈধতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ডিমোনের যুক্তি, এই ধরনের চরম পদক্ষেপ প্রায় ৮০% আমেরিকানের জন্য ঋণের সুযোগ সীমিত করে দেবে, যারা ক্রেডিট কার্ডকে একটি আর্থিক সুরক্ষা জাল হিসেবে ব্যবহার করেন। ডিমোন বলেন, "এটি একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় হবে, এবং আমি এটা বানিয়ে বলছি না, কারণ আমাদের ব্যবসা কোনোমতে টিকে যাবে।"
ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বেঁধে দেওয়ার বিতর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। বার্নি স্যান্ডার্স এবং এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো প্রগতিশীল রাজনীতিবিদরা পূর্বে একই ধরনের ব্যবস্থার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের যুক্তি ছিল যে এটি গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে রক্ষা করবে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের সীমা অপ্রত্যাশিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমন ঋণের সহজলভ্যতা হ্রাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের ব্যক্তি এবং যাদের ক্রেডিট হিস্টরি খুব একটা ভালো নয়, তাদের জন্য।
ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারের সীমার সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরেও বিস্তৃত। অনেক উন্নত অর্থনীতিতে household debt বা পরিবারের ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হল ক্রেডিট কার্ডের ঋণ এবং সুদের হারের পরিবর্তন গ্রাহকদের খরচ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বল্প উন্নত আর্থিক ব্যবস্থাযুক্ত দেশগুলোতে ঋণের সুযোগ প্রায়শই সীমিত থাকে এবং সুদের হারের সীমা ব্যক্তি এবং ছোট ব্যবসার জন্য ঋণের সুযোগ আরও সংকুচিত করতে পারে।
ট্রাম্প এই পরিকল্পনাটি আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয় এবং এই ধরনের সীমা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো বেশ কঠিন। এই প্রস্তাব অর্থনীতিবিদ এবং আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি সমস্যাग्रस्त গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বস্তি দিতে পারে, আবার কেউ কেউ বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। প্রস্তাবটির বর্তমান অবস্থা অনিশ্চিত, এবং ভবিষ্যতের অগ্রগতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত হতে পারে এমন যেকোনো আনুষ্ঠানিক নীতি প্রস্তাবের উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment