বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরে ফরাসি কর্তৃপক্ষ একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে, যা রাশিয়ার তেল রপ্তানির উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য তৈরি করা একটি রাশিয়ান "শ্যাডো ফ্লিট"-এর অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, "গ্রিনচ" নামের জাহাজটিকে স্পেন এবং মরক্কোর মধ্যে ফরাসি নৌবাহিনী মিত্র দেশগুলির সহায়তায় আটক করে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও ছিল।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন যে ট্যাঙ্কারটি "আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অধীন ছিল এবং মিথ্যা পতাকা বহন করার সন্দেহে ছিল"। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে জাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে এর পতাকা সংক্রান্ত অনিয়ম নিশ্চিত করা হয়েছে। মেরিনট্র্যাফের মতো জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে গ্রিনচ কোমোরোসের পতাকা ব্যবহার করছিল।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রিনচ রাশিয়ার উত্তরে অবস্থিত একটি বন্দর শহর মুরমানস্ক থেকে যাত্রা করেছিল, যা আর্কটিক সার্কেলে অবস্থিত। এই আটকের ঘটনাটি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর দেশটির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর করার চলমান প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলির লক্ষ্য হল বিশ্ব বাজারে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে রাশিয়ার প্রবেশাধিকার সীমিত করে তাদের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে অর্থায়ন করার ক্ষমতা সীমিত করা।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনের জন্য মস্কোর তথাকথিত শ্যাডো ফ্লিট হল পুরনো ট্যাঙ্কারের একটি নেটওয়ার্ক, যেখানে মালিকানা এবং বীমা অস্পষ্ট। এই গোপন কার্যক্রম রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে সাহায্য করে, যা নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা দুর্বল করতে পারে। এই ধরনের নৌবহরের ব্যবহার সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ায়, কারণ এই জাহাজগুলি আন্তর্জাতিক মান মেনে নাও চলতে পারে।
প্যারিসের রাশিয়ান দূতাবাস জানিয়েছে যে তাদের আটকের বিষয়ে জানানো হয়নি। এই ঘটনাটি রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সেইসাথে একটি বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রয়োগের জটিল চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। এই আটকের ঘটনা ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলবে এবং ইউক্রেনের সংঘাত থেকে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার সাথে আরও একটি মাত্রা যোগ করবে। গ্রিনচ এবং এর পণ্য সম্পর্কিত পরবর্তী পদক্ষেপগুলি এখনও অস্পষ্ট, কারণ কর্তৃপক্ষ তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment