ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপকে বিশ্ব মঞ্চে আরও বেশি সাহস ও ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, সেই সাথে ন্যাটোর যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলেনস্কির এই মন্তব্যগুলি ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ক্রমবর্ধমান রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়।
জেলেনস্কি ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন, যা স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়ের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডের পরিস্থিতি, ভৌগোলিকভাবে ইউক্রেন থেকে দূরে হলেও, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা এবং অপ্রত্যাশিত সংঘাতের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্পদ অনুসন্ধানের কারণে আর্কটিক অঞ্চলে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশসহ প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
জেলেনস্কির এই আহ্বান রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার চলমান সংগ্রামকে প্রতিফলিত করে। ২০১৪ সাল থেকে, ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে এবং রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে এবং রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলেছে। ইউক্রেন একটি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ ইউরোপকে রাশিয়ার আরও বিস্তার রোধ করতে এবং তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
ইউরোপীয় ঐক্যের আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার সাথেও অনুরণিত হয়। এই জোট অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং আইনের শাসন এর মতো বিষয়গুলোতে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সম্মুখীন হয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন যে আরও দৃঢ় বিদেশনীতি ইউরোপীয় পরিচয়কে শক্তিশালী করতে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংহতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। তবে, ইইউ-এর মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থ এবং দৃষ্টিভঙ্গি থাকার কারণে মূল কৌশলগত বিষয়গুলোতে ঐক্যমতে পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী মাসগুলোতে সম্ভবত জানা যাবে ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেন এবং তারা বিশ্ব affairs-এ আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক কিনা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment